“তব কথামৃতং তপ্তজীবনং, কবিভিরীড়িতং কল্মষাপহম্ ৷
শ্রবণমঙ্গলং শ্রীমদাততং, ভুবি গৃণন্তি যে ভূরিদা জনাঃ ৷৷”
১৮৮৪, ২৭শে ডিসেম্বর
ঈশাবতারং পরমেশমীড্যং তং রামকৃষ্ণং শিরসা নমামি।।”
SRI RAMAKRISHNA TODAY
(রামকৃষ্ণ সারদা আশ্রম (আঁটপুর) থেকে প্রকাশিত ২০০৯-২০১০ বার্ষিক ‘হোমাগ্নি’ পত্রিকায় আমার অতিপ্রিয় ও আপনার জন শ্রী অচিন্ত্য মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের কলম থেকে)
।। শ্রীচৈতন্যদেবের সন্ন্যাস ও শ্রীক্ষেত্র যাত্রা।।
– ১ –
নিমাই-এর মন সাধারণজনের দুঃখে যন্ত্রণাকাতর হয়ে পড়েছে। তাঁর সেই সিদ্ধান্ত, সন্ন্যাস গ্রহণের , তাঁর অন্তরে আরও দৃঢ়ভাবে প্রথিত হতে লাগল।
কিন্তু একই সাথে এটাও তিনি অনুভব করতে লাগলেন যে সিদ্ধান্ত করা যত সহজ তাকে কার্যে পরিণত করা ঠিক ততটাই কঠিন। বিশেষ করে যখন সেটা বৃদ্ধা জনণীর একমাত্র পুত্রের ও কিশোরী সাধ্বী স্ত্রীর প্রেমময় স্বামীর পক্ষে গ্রহন করতে হয়।
সংসারের দুর্জয় আকর্ষণ যে সবের প্রতি সাধারণে অনুভব করে অর্থাৎ দেহসুখ,যশাকাঙ্খা,সম্পদলাভ ইত্যাদি সে সবের প্রতি নিমাই-এর বিন্দুমাত্র আকর্ষন নেই। তাঁর নিজের দিক দিয়ে না হলেও মা-স্ত্রীকে অকুল পাথারে ভাসিয়ে দিয়ে সন্ন্যাস নিয়ে সংসার ত্যাগ করে বেড়িয়ে যেতে মনের কোণায় কোথায় যেন এক বাধা অনুভব করতে লাগলেন।
পরম শাস্ত্রজ্ঞ নিমাই -এর কাছে সন্ন্যাসের অধিকার সম্বন্ধীয় অনুশাষন অজানা নয়। কিন্তু শাস্ত্র কি পারে সন্তানহারা জননীর বুকফাটা হাহাকারকে শান্ত করতে? পারে কি কিশোরী প্রেষয়ী স্ত্রীর অন্তরের অব্যক্ত যন্ত্রণা উপশম করতে? না পারে না। একদিকে সহস্র সহস্র অসহায় আপামর জনসাধারণ আর একদিকে একান্ত নির্ভরশীল , প্রেমময়ী দুই নারী । একজন বাৎসল্য প্রেমের দ্বারা আর একজন মধুর প্রেমের দ্বারা তাঁকে বেঁধে রাখার প্রয়াস পাচ্ছে। এদুয়ের মধ্যে পড়ে নিমাই-এর কোমল হৃদয় উত্তরোত্তর যন্ত্রণা কাতর হয়ে পড়েত
লাগল।তিনি ক্রমাগত চিন্তাচ্ছন্ন হয়ে দিন কাটাতে লাগলেন।
এর প্রতিফলন নিমাই-এর দৈনন্দিন জীবন ধারার ওপর পড়তে লাগল। তিনি চুপ করে বসে বসে কি যেন ভাবেন। এমন কি তাঁর প্রাণের প্রান সংকীর্তনেও মাঝে মাঝে অনুপস্থিত থাকতে লাগলেন। অন্তরঙ্গ ভক্তগণ তাঁর এই হঠাৎ উদাসীনতায় বড় আশ্চর্য হয়ে উঠলেন। ব্যতিক্রম শুধু নিত্যানন্দ। এই চির আনন্দময় পুরুষ নিত্য নিমাইকে সঙ্গ দেন,তাঁকে আগলে রাখেন, তাঁকে প্রফুল্ল করার চেষ্টা করেন। একমাত্র তিনিই যেন নিমাই-এর অন্তরের ভাব অনুধাবন করতে পারেন। শচীমা বড় উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছন। নিমাই-এর এই ভাবান্তরের কারণ কি তা তিনি কিছুতেই বুঝে উঠত্ পারছেন না। বেশ তো ছিল নিমাই। আবার একি হল তাঁর। নিত্যানন্দ সকলকেই প্রবোধ দেন ,এ সাময়িক ব্যাপার কিছুদিনের মধ্যেই নিমাই আগের মত হয়ে যাবে।
নবদ্বীপ থেকে কিছুদূরে গঙ্গার অপর পারে, কাটোয়ায় শ্রীমৎ কেশব ভারতীজী তাঁর কুঠীয়ায় থেকে সাধনভজন করতেন। বৃদ্ধ, তত্ত্বজ্ঞানী, সন্ন্যাসী সশিষ্য সেখানে বাস করতেন। একবার তিনি নবদ্বীপে এলেন এবং নিমাই-এর গৃহে ভিক্ষার্থী হলেন। এ যেন এক অদৃশ্য নাট্যকারের নিয়ন্ত্রিত ঘটনাবলী। নিমাই তাঁকে সশ্রদ্ধ অভ্যর্থনা করলেন। নিজের হাতে রান্না করে তাঁকে ভিক্ষা করালেন। নিমাই-এর কথা শুনেছিলেন বৃদ্ধ সন্ন্যাসী। শুনেছিলেন তাঁর সম্বন্ধে ভাল-মন্দ কত কথা। কিন্তু
এবার তাঁকে সাক্ষাত দেখলেন,কথা বললেন এবং সেবা গ্রহন করলেন। তাঁর তপঃশুদ্ধ অন্তর. কিন্তু অন্য কথা অনুভব করতে লাগল। এ কোন সাধারণ
মানুষ হতে পারে না। তিনি শুধুই নিমাই-এর অপরূপ বাহ্যিক রূপটাই দেখলেন না,দেখলেন নিমাই-এর অন্তরে যন্ত্রণা ক্লিষ্ট জীবের জন্য
ভিক্ষা গ্রহনের পর সামান্য বিশ্রাম করা হলে ভারতীজী নিমাই-এর সঙ্গে আলাপ করতে বসলেন।
নানান শাস্ত্রীয় প্রসঙ্গের পর নিমাই তাঁর সন্ন্যাসের অধিকার সম্বন্ধে প্রশ্ন করলেন। ভারতীজী বললেন,
“তুমি বিধবা মায়ের একমাত্র অবলম্বন। তাছাড়া
তোমার সাধ্বী স্ত্রী এখনও পুত্র মুখদর্শন করেনি। এই অবস্থায় তাদের অনুমতি বিনা সংসার ত্যাগ করে যাওয়া অনুচিত। ” এরপর নানান শাস্ত্রীয় যুক্তি
প্রদর্শন করে নিমাই দেখালেন যখন সংসার অন্ধকূপের মত বোধ হয় এবং ঈশ্বরের জন্য ব্যাকুলতায় ঐহিক কোন কিছুই আর প্রিয় বলে বোধ হয় না, তখন শাস্ত্রীয় যুক্তির উল্লঙ্ঘন ঘটে
এবং সংসার ত্যাগের অধিকার জন্মায়। বৃদ্ধ সন্ন্যাসী
নিমাই-এর অন্তস্পর্শী কথা শুনে চুপ করে রইলেন।
নিমাই তাঁর সংকল্প হতে বিচ্যুত হলেন না।
এদিকে শচীমা বড়ই ব্যাকুল হয়ে পড়েছেন। একদিন অবসরে নিমাইকে কাছে পেয়ে ,তাঁর গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে তাঁর এই মন খারাপের কারণ
জানতে চাইলেন। নিমাই এইরকমই এক সুযোগের
অপেক্ষায় ছিলেন। শচীমা-এর মন বুঝে তিনি সন্ন্যাসের অনুমতি প্রার্থনা করলেন। ষোল বছর আগে তাঁর এক ছেলে সংসার ত্যাগ করে চলে গেছে। আর এইটি ছিল তাঁর একমাত্র অবলম্বন।
সেও সংসার ত্যাগ করতে চায়। ডুকরে কেঁদে উঠলেন শচীমা।নিমাই একটু সময় নিয়ে মাকে শান্ত
হবার সুযোগ দিলেন। তারপর উচ্চ আধ্যাত্মিক
তত্ত্বকথায় মাকে সান্তনা দিতে লাগলেন। বোঝাতে
লাগলেন জগতের অনিত্যতা ও কর্মফলের বন্ধন।
কে তুমি তোমার পুত্র কে বা কার বাপ।
মিছা তোর মোর করি কর অনুতাপ।।
কি নারীপুরুষ কিবা কে বা কার পতি।
শ্রীকৃষ্ণ চরণই অন্য নাহি গতি।।
সেই মাতা সেই পিতা সেই বন্ধুজন।
সেই হর্তা সেই কর্তা সেইমাত্র ধন।।
তা বিনু সকলই মিছা কহিনু এ তত্ত্ব।
তা বিনু সকল মিথ্যা সকল জগত।।
পুত্র স্নেহে কর মোরে যত বড় ভাব।
শ্রীকৃষ্ণ চরণ হৈলে কত হৈত লাভ।।
সংসারে আরতি করি মরিবার তরে।
শ্রীকৃষ্ণ আরতি করি ভব তরিবারে।।
ধীরে ধীরে শচীমায়ের মনে জগতের অনিত্যতার ভাব প্রতিফলিত হতে লাগল।তাঁর অন্তরে প্রতিভাত
হতে লাগল শ্রীকৃষ্ণ বই জগতে আর কোন আশ্রয় নেই। একমাত্র তাঁকে অবলম্বন করলেই সংসারের দুঃখ যন্ত্রণার হাত হতে মুক্তি পাওয়া যায়,সমস্ত কর্ম
বন্ধনের পারে যাওয়া যায়। আর তাঁর আদরের নিমাই সেটাই করতে চাইছে। তিনি বাধা দেওয়ার কে! অন্তরের গভীরে সন্তান হারানোর বেদনা অসহ্য
বোধ হলেও তিনি তাঁর প্রাণের ধন নিমাই-এর কথাই
ভাবতে লাগলেন। নিমাইয়ের অন্তরে যে বৈরাগ্যের
উদয় হয়েছে, তাকে দমন করে, তাকে সংসারে বেঁধে রাখলে তার যন্ত্রণা বাড়বে বই কমবে না। বাৎসল্যভাবের আধিক্যে এমন তাঁর নিজের সুখদুঃখ তুচ্ছ বলে মনে হতে লাগল। সন্তানের আনন্দই তাঁর কাছে একমাত্র কাম্য বলে মনে হল।
তিনি নিমাইকে সন্ন্যাসের অনুমতি দিলেন কিন্তু আরো কিছুদিন তাঁর কাছে থাকতে অনুরোধ করলেন।নিমাইয়ের অভীপ্সা পূর্ণ হল। তিনি মায়ের পায়ে মাথা রেখে বারবার প্রণাম করতে লাগলেন
আর শচীমা তাঁর মাথায় হাত রেখে তাঁর সর্ববিদ কল্যাণ কামনায় আশীর্বাদ করলেন।
লোকের মুখে মুখে নিমাই-এর সন্ন্যাসের খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল। দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া তখন বাপের বাড়ীতে ছিলেন। তাঁর বয়স তখন সবে চোদ্দ বছর,লোকের মুখে স্বামীর সন্ন্যাসের সংকল্পের খবর শুনে দ্রুত শ্বশুরবাড়ী ফিরে এলেন। সেদিন রাত্রে খাওয়াদাওয়ার পর নিমাই যখন শয়নকক্ষে
বিশ্রাম করছেন তখন বিষ্ণুপ্রিয়া স্বামীর পদসেবা করতে করতে নিজের হৃদয়ের আর্তি তাঁর প্রেমের দেবতার কাছে নিবেদন করলেন এবং নিমাইয়ের রাতুল শ্রীচরণ অশ্রুধৌত করতে লাগলেন। নিমাইয়ের কোমল হৃদয়ে বড় ব্যাথা লাগল। বিষ্ণুপ্রিয়াকে কাছে টেনে নিলেন,গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে পরম প্রেমময় বাক্যে তাঁকে উচ্চ আধ্যাত্মিক তত্ত্ব বোঝাতে লাগলেন।
জগতে যতেক দেখ, মিছা করি সব লেঘ,মিছা করি
করহ গেয়ান।
মিছা পতি সুতনারী,পিতামাতা যত বলি,পরিণামে কে হয় কাহার।।
শ্রীকৃষ্ণ চরণ বহি,আর তো কুটুম্ব নাহি,যত দেখ সব মায়া তার।
কি নারী পুরুষ দেখ, সভারি সে আত্মা এক,মিছা মায়া বন্ধে হয় দুই।
শ্রীকৃষ্ণ সভার পতি আর সব প্রকৃতি এই কথা না বুঝয়ে কোই।।
পরম বিশুদ্ধা-হদয়া দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া স্বামীর মতই বৈরাগ্যের উদয় হল। বৃদ্ধা শাশুড়ী সন্তান হারিয়ে কি পরিমান যন্ত্রণায় পড়বেন তা ভেবে তিনি ব্যাকুল হলেন। নিমাই মৃদু হেসে তাঁকে আশ্বস্ত করলেন যে তিনি পূর্বেই মায়ের অনুমতি পেয়েছেন। তখন দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া সীতার ন্যায় গৃহত্যাগ করে তাঁর অনুগামিনী হয়ে তাঁকে সেবা করার অনুনতি প্রার্থনা করলেন। কিন্তু নিমাই তাঁকে সন্ন্যাসের কঠিন নিয়ম বোঝাতে লাগলেন। সন্ন্যাসীর নারীমুখ দর্শন মানা
ইত্যাদি। তিনি আরও বললেন, “আমি যখন চলে যাব তখন মাকে এবং গৃহদেবতার দেখাশুনার ভার তোমার। সেটাই হবে তোমার পরম সাধন। “
এদিকে শ্রীবাস অঙ্গনে কীর্তন হয় প্রতিদিন। কিন্তু ভক্তদের হৃদয়ে যেন কাঁটা ফুটে আছ। নিমাই সন্ন্যাস নেবে ; তাদের ছেড়ে চলে যাবে। একথা তাঁরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। একদিন তাঁরা সবাই মিলে নিমাইকে বোঝাতে এলেন যাতে তিনি সন্ন্যাস না নেন। ভক্তদের দুঃখে নিমাই অত্যন্ত দুঃখিত হলেন কিন্তু নিজের সংকল্প হতে বিচলিত হলেন না। তাদের তিনি বর্তমান সমাজের অবস্থা ও
নানান তত্ত্ব কথা শুনিয়ে তাঁদের শান্ত করলেন।
দিন যায়। নিমাইয়ের মনে উদ্বেগ,ব্যাকুলতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি হতে লাগল।তবুও বাহিরে তিনি শান্ত ভাব বজায় রেখেছেন। তিনি জানেন ,যদিও
স্নেহময়ী জননী তাঁকে সন্ন্যাস গ্রহনের অনুমতি দিয়েছেন তবুও তাঁর সামনে গৃহত্যাগ করে যাওয়া কখনই সম্ভব হবে না। তাই তাঁকে গোপনে গৃহত্যাগ করতে হবে। আর এরকমই চির কাল হয়ে এসেছে।
কে আর ঢাক-ঢোল পিটিয়ে সন্ন্যাস নেয়। তাই তিনি
সুযোগের অপেক্ষায় রইলেন। দেখতে দেখতে মাঘ মাস তো শেষ হয়ে এলো। তিনি স্থির করলেন মাঘ মাসের সংক্রান্তির দিন যেদিন সূর্য মকররাশি থেকে কুম্ভরাশিতে গমন করছে সেদিন বড়ই শুভ দিন। সেদিন তিনি গৃহত্যাগ করবেন।
তার আগের দিন রাত্রি থাকতে শয্যাত্যাগ করলেন
নিমাই। শয্যায় নিশ্চিন্দ নিদ্রায় রয়েছেন প্রেমময়ী
স্ত্রী দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া। শয়নকক্ষ থেকে বেড়িয়ে এসে হাতে মুখে জল দিয়ে তিনি গৃহদেবতা রঘুনাথের কক্ষের সামনে এসে উপস্থিত হলেন। মৃদু হাততালি দিয়ে বন্ধ দরজার সম্মুখে সাষ্টাঙ্গ প্রণিপাত করলেন। গৃহত্যাগ ও সন্ন্যাসের অনুমতি প্রার্থনা করে তাঁর ওপর বৃদ্ধা জননী ও যুবতী স্ত্রীর ভার সমর্পন করলেন। তারপর এলেন জননীর শয়নকক্ষের সামনে। বদ্ধ দরজার সামনে ভূমিষ্ঠ হয়ে প্রণাম করে জননীর উদ্দেশ্যে বারবার ক্ষমা প্রার্থনা করতে লাগলেন। তাঁর দুচোখের কোল বেয়ে অশ্রুধারা নেমে এল। মনকে দৃঢ় করে চোখের জল মুছে ফেললেন। তারপর গৃহের বাইরে এসে জননী ও জন্মভূমির উদ্দেশ্যে প্রণাম জানিয়ে রাস্তায় নামলেন। পরনে তাঁর একটিমাত্র বস্ত্র – সম্বল হীন। শীতের রাত্রি তখনও ভোর হয়নি তিনি ছুটে চললেন গঙ্গার উদ্দেশ্যে। দুকুল ভাসিয়ে বয়ে চলেছে পতিতপাবনী গঙ্গা। এক মুহুর্তও অপেক্ষা না করে
ঝাপিয়ে পড়লেন নিমাই। সাঁতার কেটে চললেন ওপারের উদ্দেশ্যে। তাঁর মত বলিষ্ঠ দক্ষ সাঁতারু নদীয়ায় একটিও ছিল না। ভোরের আকাশ পরিষ্কার হয়ে এসেছে। এসে উঠলেন. কাটোয়ায় শ্রীমৎ স্বামী কেশব ভারতীজীর আশ্রমের লক্ষ্যে।
********************