তুমি মা সারদা = সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

Sri Sarada Devi,

তুমি মা সারদা

=============

★সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়★

——————————–
                                  ছয়
                               
            
         এরপরে ভয়ঙ্কর একটা এলোমেলো অবস্থা। কাশীপুর থেকে মা এলেন বলরাম বসুর বাড়িতে। সেখান থেকে ভাদ্র মাসের ১৫ তারিখে মা যাত্রা করলেন বৃন্দাবনে। সঙ্গে আছেন স্বামী যোগানন্দ, অভেদানন্দ, অদ্ভুতানন্দ, লক্ষ্মীদেবী, গোলাপ-মা আর নিকুঞ্জদেবী। প্রথমে নামলেন দেওঘরে। ঠাকুরের এক মহালীলাস্থল। তারপরে গেলেন কাশীধাম। এটিও ঠাকুরের এক মহালীলা ক্ষেত্র। বিশ্বনাথের মন্দিরে মা আরতি দর্শন করছেন। হঠাৎ দেখছেন উজ্বল শরীরে ঠাকুর মায়ের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। মা ভাবের ঘরে চলে গেলেন। সঙ্গীরা দেখছেন মা দুম দুম শব্দে পা ফেলে ফেলে বাসায় ফিরলেন। ফিরে এসেই শুয়ে পড়লেন।প্রকৃতিস্থ হওয়ার পর সবাই জিজ্ঞেস করলেন—-‘কি হয়েছিল মা!’ মা বললেন,  ‘ঠাকুর আমাকে হাত ধরে মন্দির থেকে নিয়ে এলেন।’

         কাশী থেকে মা সদলে এলেন অযোধ্যায়। অযোধ্যায় একদিন থেকে বৃন্দাবনের পথে। রেলগাড়িতে মা শুয়েছেন নিচের আসনে। ঠাকুরের ওপর বাহুতে একটি ইষ্টকবচ ছিল। অসুস্থ অবস্থায় সেটি খুলে মায়ের হাতে পরিয়ে দিয়েছিলেন। মা সেটি সযত্নে ধারণ করেছিলেন, ও নিত্যপূজা করতেন। রেলের খোলা জানালায় সেই হাতটি উঁচু করে রেখেছিলেন। হঠাৎ দেখছেন জানালার বাইরে ঠাকুর এসে দাঁড়িয়েছেন। জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে ঠাকুর বললেন, ‘হাতে সোনার ইষ্টকবচ। হাতটা এমন করে রেখেছ কেন ? ওটা যে চোরে অনায়াসে খুলে নিতে পারে !’
         মা তাড়াতাড়ি উঠে বসলেন। কবচখানি খুলে যে-টিনের বাক্সে ঠাকুরের ছবিটি থাকত, যে-ছবি তিনি প্রতিদিন পূজা করতেন, সেই বাক্সে কবচটি রাখলেন। জীবনে আর কখনো পরিধান করেননি। পরে ওই ইষ্টকবচ তিনি স্বামী প্রেমানন্দকে দিয়েছিলেন। মঠের ঠাকুরঘরে রেখে নিত্যপূজার জন্যে। পূজাবিধিও শিখিয়ে দিয়েছিলেন।

টানা ছ ঘন্টা রুগী দেখে ভেতরবাড়িতে খেতে ঢোকেন। আবার বিকেল চারটে থেকে চেম্বার শুরু হয়ে যায়।

অণুগল্প  —

ডাক্তার করুণাময় পাঁজার নামডাক খুব। মেমারি স্টেশন থেকে বাসে ফুলডাঙা-দেবীপুরে নেমে কাউকে বললেই দেখিয়ে দেবে ডাক্তারবাবুর  সাবেকী বাড়ি। দীঘি, বাগান সমেত অনেকটা জমির ওপরে ডাক্তার করুণাময় পাঁজার বসতবাড়িটি। বার-বাড়িতে চেম্বার। অপেক্ষমান রুগীদের জন্য সারিসারি বেঞ্চি পাতা। তবু ভিড় রোজই উপছে পড়ে রাস্তায়।
ডাক্তারবাবু সকাল আটটায় রুগী দেখা শুরু করেন। টানা ছ ঘন্টা রুগী দেখে ভেতরবাড়িতে খেতে ঢোকেন। আবার বিকেল চারটে থেকে চেম্বার শুরু হয়ে যায়।
তখনো সন্ধে নামেনি। ভিড় পাতলা হয় নি মোট্টে। হঠাৎ সদলবলে দারোগা তারাপদবাবুকে আসতে দেখে করুণা ডাক্তারের কম্পাউন্ডার সিদ্ধিনাথ অবাক হল। সে এগিয়ে এসে বলল, ডাক্তারবাবু রুগী দেখছেন। খবর দেবো কি?
মেমারি থানার নতুন দারোগা তারাপদ ঘোষাল চিন্তিত মুখে বললেন, হুঁ, খবর দাও। আমি অবশ্য ভেতরে গিয়েই দেখা করব।
করুণা ডাক্তার বেরিয়ে এসে বললেন, করেছেন কি পুলিশ-সাহেব? একেবারে পাইক-বরকন্দাজ নিয়ে সম্মুখ সমরে? কোমরে দড়ি পরাতে এলেন নাকি?
তারাপদ দারোগা একটু হেসে বললেন, না, কিন্তু ব্যাপারটা গুরুতর। চলুন ভেতরে চলুন, বলছি।
দারোগা বাবুর সঙ্গে একজন হাবিলদার আর দুজন কন্সটেবল এসেছে। তাদের বাইরে রেখে ওঁরা চেম্বারে ঢুকলেন। দুজনেই সমবয়স্ক, বুদ্ধিমান এবং নিজের পেশায় নিবেদিতপ্রাণ। খুব অল্প সময়ের মধ্যে দুজনের বন্ধুত্বও তৈরী হয়েছে। তারাপদ ঘোষাল আর ভণিতা না করে সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন, আপনি পিশাচ পুষছেন?
– পিশাচ? পুষবো? কেন বলুন তো ঘোষাল সাহেব?
– সেটা তো আমারও প্রশ্ন। খবর আছে, আপনার দীঘিতে মড়া ভেসে বেড়াচ্ছে দিনমানে। আপনি সকালে সন্ধ্যায় দীঘির ধারে এসে তাকে ডাকেন, আর সেই মড়া জ্যান্ত হয়ে পুকুরঘাটে চলে এসে আপনার সঙ্গে চা-বিস্কুট খায়, খেয়ে আবার জলে নেমে মড়ার মত ভেসে চলে।
– তাহলে খবর তো একরকম পেয়েই গেছেন। তা এখন ধরবেন কাকে? আমাকে? পিশাচকে চা-বিস্কুট খাওয়াই বলে? নাকি মড়াটাকে? সে চা-বিস্কুট খায় বলে?
– না, খুলে বলুন। ওপরমহল থেকে খোঁজ করতে পাঠিয়েছে আমায়। আমি তো চিনি আপনাকে, তাই সরাসরি জানতে চাইছি, ব্যাপারখানা কি? একটা মড়া নিস্পন্দ হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে আপনার কালো দীঘিতে, আবার জ্যান্ত লোকের মত আপনার সঙ্গে কথাবার্তা কইছে, এ তো পিচেশের কাজ, ইংরিজীতে যাদের বলে zombie. জীবন্মৃত প্রেতযোনি। আমাদের এস পি মাসুদ সাহেবকে তো ভালোই চেনেন, এ অঞ্চলেরই লোক। উনিই বললেন, ঘোষাল, দেখে এসো তো ব্যাপারখানা। পাঁজা-ডাক্তারের কালো দীঘির কালবোশ মাছ খুব বিখ্যাত, আর তিমি-র সাইজের মহাশোল। একবার ওখানে মাছ ধরার নেমন্তন্ন পাওয়া যাবে ভেবে রেখেছিলুম কিন্তু সেখানে এ রকম পৈশাচিক ব্যাপার-স্যাপার ঘটতে থাকলে তো ভারী মুশকিল।
ভ. করুণা পাঁজা বললেন, আশা করি পিশাচের গল্পে আপনি বিশ্বাস করেননি, ঘোষাল বাবু –
– তা করিনি, কিন্তু রহস্যটা জানবার জন্য কৌতূহলে যে ফেটে পড়ছি না এমনও নয়। খুলে বলুন, আপনার রহস্যময় ভাসমান অশরীরীটি কোন্‌ গোত্রের?
– উনি আমার স্ত্রীর গুরুদেবের আত্মীয়। যোগী মানুষ। পড়াশুনো করেছেন দেশে ও বিদেশে। একটু একা থাকতে চাইছেন আজকাল। জলযোগ ওঁর সাধনা। জল-যোগ শুনে কুম্ভকর্ণ বা মধ্যমপান্ডব বৃকোদরের সঙ্গে এঁর জলযোগের তুলনা করবেন না। ইনি খান যৎসামান্য। ভালোবাসেন ফিলসফি অভ্‌ সায়েন্স নিয়ে আড্ডা দিতে। জলচিকিৎসা নিয়ে বই লিখছেন। নিজের আশ্রম আছে কোথায় যেন। কদিনের জন্য এসেছেন এখানে। অভুত লোক। নিস্পন্দ হয়ে ভেসে থাকতে পারেন কয়েক ঘন্টা। আবার যখন কথা বলেন, আপনাকে উদ্দীপনায় চন্‌মনে করে দেবেন। চলুন, আলাপ করিয়ে দিই আপনার সঙ্গে।
পুকুরঘাটে আলাপ হল ওঁর সঙ্গে। ঝক্‌ঝকে চোখ। দাড়িগোঁফে আচ্ছন্ন মুখমণ্ডল। খুব সহজ ভাবে কথা বলছিলেন মানুষটি। চা খেতে খেতে সদ্যস্বাধীন ভারতবর্ষের কথাও উঠল।
সন্ধে ঘনিয়ে এসেছে। তারাপদ খানিক চুপ করে থেকে বললেন, আপনি ঘরছাড়া আজ অনেক বছর। জানি না কেন আপনি আত্মগোপন করে আছেন। নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। আমি থানার দিকে রওনা দিচ্ছি। গিয়ে রিপোর্ট দাখিল করতে হবে। এইটুকু সময় আপনার হাতে রইল। যদি পলাতক হয়েই থাকতে চান, এগিয়ে যান। প্রশ্ন করব না আপনি কোথায় যাচ্ছেন। শুধু, আপনাকে একবার প্রণাম করতে পারি?
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস আপত্তি করলেন না। হেসে বললেন, পুনরাগমনায় চ। জয় হিন্দ।
হতচকিত ডাক্তার করুণাময় পাঁজাকে স্তম্ভিত করে রেখে লম্বা লম্বা পা ফেলে মুহূর্তে অন্তর্হিত হলেন ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামের সিংহ

ইনি সেই ব্যাক্তি যিনি তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, "Vivekananda entered my life." তিনি লিখেছেন, ‘ত্যাগে বেহিসাবি, কর্মে বিরামহীন, প্রেমে সীমাহীন স্বামীজির জ্ঞান ছিল যেমন গভীর তেমনি বহুমুখী।

ইনি সেই ব্যাক্তি যিনি তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, “Vivekananda entered my life.” তিনি লিখেছেন, ‘ত্যাগে বেহিসাবি, কর্মে বিরামহীন, প্রেমে সীমাহীন স্বামীজির জ্ঞান ছিল যেমন গভীর তেমনি বহুমুখী। … আমাদের জগতে এরূপ ব্যাক্তিত্ব বাস্তবিকই বিরল। স্বামীজি ছিলেন পৌরুষসম্পন্ন পূর্ণাঙ্গ মানুষ।…. ঘন্টার পর ঘন্টা বলে গেলেও সেই মহাপুরুষের বিষয় কিছুই বলা হবে না। এমনি ছিলেন তিনি মহত্, এমনি ছিল তাঁর চরিত্র- যেমন মহাণ তেমনি জটিল। … আজ তিনি জীবিত থাকলে আমি তাঁর চরণেই আশ্রয় নিতাম।”
ইনিই নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস। তাঁর অন্তরঙ্গ বাল্যবন্ধু চারুচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায় এক সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, ‘ সুভাষের সঙ্গে আবাল্য খুব ঘনিষ্ঠ ভাবে মিশেছি। তাই জোর করে বলতে পারি যে, বিবেকানন্দের প্রভাব যদি সুভাষের উপর না পড়ত তবে সুভাষ “সুভাষ” হত না, “নেতাজী” হত না। হয়ত অ্যাডভোকেট জেনারেল হত কিম্বা ব্যারিস্টার হত, কিন্তু আইএনএ যে ফর্ম করেছে সেই “নেতাজী সুভাষচন্দ্র”কে আমরা পেতাম না।’
স্কুল জীবনে নেতাজী তাঁর প্রধান শিক্ষক শ্রীযুক্ত বেণীমাধব দাসের সংস্পর্শে খুব প্রভাবিত হন।
তাঁর প্রভাবেই বালক সুভাষের মধ্যে প্রকৃতিপ্রেম, কাব্য ও সৌন্দর্যচেতনা, আদর্শবাদ ও নীতিবোধের স্ফুরণ ঘটে। কিন্তু বালক সুভাষ ব্যাকুল প্রাণে এমন একটি আদর্শের সন্ধান করছিলেন যার ওপর ভিত্তি করে সমস্ত জীবনকে গড়া যায়, যা তাঁর সমস্ত সত্ত্বাকে আলোড়িত করতে পারে।
এমন সময় এক সহপাঠীর (আত্মজীবনী মতে সহপাঠীর নাম: সুহৃদচন্দ্র মিত্র) মাধ্যমে তাঁর হাতে এল- ‘স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা।’ এবং তারপর…………. আসুন নেতাজীর মুখেই শুনি-
“কয়েক পাতা উলটেই বুঝতে পারলাম, এই জিনিসই আমি এতদিন ধরে চাইছিলাম। বইগুলো বাড়ি নিয়ে এসে গোগ্রাসে গিলতে লাগলাম। পড়তে পড়তে হৃদয়-মন আচ্ছন্ন হয়ে যেতে লাগল। ………..
দিনের পর দিন কেটে যেতে লাগল, আমি তাঁর বই নিয়ে তন্ময় হয়ে রইলাম।…………. বিবেকানন্দের প্রভাব আমার জীবনে আমূল পরিবর্তন এনে দিল।…. তাঁর মধ্যে আমার জীবনের অসংখ্য জিজ্ঞাসার সহজ সমাধান খুঁজে পেয়েছিলাম।”
(আত্মজীবনী: ‘ভারত পথিক’, পৃষ্ঠা: ৪৩-৪৪)
গৈরিক বস্ত্র পরে স্বামী বিবেকানন্দ যদি বিশ্বে এত খ্যাতি পেতে পারেন তবে আমি কেন কোট প্যান্ট পড়ব? – বাল্যকালে নেতাজী সুভাষ তাঁর পিতাকে এই কথা বলেছিল, অর্চনা, ২০১১, পৃঃ ৪৬।

শাহরুখ খানের ছবি "রইস"।

আগামী ২৫ শে জানুয়ারি রিলিজ হতে চলছে শাহরুখ খানের ছবি “রইস”। যে সিনেমায় নায়ক শাহরুখ, ভিলেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি, এবং নায়িকা মাহিরা খান সকলেই মুসলিম, মাহিরা আবার পাকিস্তানি। যার জীবনকাহিনী নিয়ে এই “রইস” ছবি তৈরি করেছে শাহরুখ তার নাম আব্দুল লতিফ।
…অর্থাৎ এই পোস্টের মূল উদ্দেশ্য, বাস্তব জীবনে এক জেহাদি আতঙ্কবাদী আব্দুল লতীফের আসল কাহিনী আপনাদের জানানো। যদি মনে করেন শাহরুখ আমার প্রিয় নায়ক, তার ছবি তো দেখতে যাবই; তবে তার আগে জেনে নিন কে ছিল এই আব্দুল লতীফ ???
.
…আব্দুল লতীফের জন্ম আহমেদাবাদের কালুপুর নামক এক মুসলিম বহুল এলাকায়। আব্দুল লতিফরা ছয় ভাই বোন। এত ভাইবোন, তাই তাদের আর্থিক স্থিতি ভাল ছিল না। এই কারনে টাকার জন্য আব্দুল লতীফ এক মদ বিক্রেতা “আল্লা রাখা”র সংঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। আস্তে আস্তে দুই জন মিলে নকল মদের দুই নম্বরী কারবার করতে থাকে। এতে অনেক টাকার মালিক হয় আব্দুল লতীফ।
…১৯৯০ এর দশকে আব্দুল লতীফ পাকিস্তানে গিয়ে ভারতের পয়লা নম্বর শত্রু দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে দেখা করে। সেখানে আব্দুল ভারতে তার দুই নম্বরী ব্যাবসায় দাউদের সাহায্যের আশ্বাস পায়, বদলে ভারতে দাউদের জেহাদি আতঙ্ক ছড়িয়ে দেবার ক্ষেত্রে দাউদকে সাহায্য করবার আশ্বাস দেয়। এছাড়াও ভারতে দাউদ ও আব্দুল মিলে নানান বেআইনি ব্যাবসা শুরুর চুক্তিও হয়।
…দাউদের সঙ্গে দেখা করার পর থেকেই আব্দুল লতিফ ভারতে জেহাদি আতঙ্ক ছড়ানো শুরু করে চুক্তি অনুযায়ী। কিছুদিনের মধ্যেই আব্দুল লতিফ খুন, চুরি, তোলা আদায়, দু-নম্বরী মদ, চরস, হাসিস, গাঁজার ব্যাবসা ও কিডন্যাপ করে টাকা আদায়কারী ডন হিসাবে কুখ্যাত হয়। ৪০ টি খুন সহ উপরিউক্ত বেআইনি কাজগুলির জন্যে ৯৭ টি কেসে গুজরাটে মোস্ট ওয়ান্টেড হয়ে ওঠে সে।
…এর মধ্যেই আব্দুল লতীফ ও তার লোকজন কংগ্রেস পার্টি থেকে টিকিট নিয়ে কালুপুর কর্পোরেশন নির্বাচনে ৫ টি সিটে জেতে। নেতা হয়ে দাউদের সঙ্গে মিলে “হিউম্যান ট্র্যাফিকিং” এর জাল ছড়ায়। মাথার ওপর কংগ্রেসি নেতাদের হাত থাকায়, আব্দুল হাজার হাজার মুসলিম ছেলেকে ভারতব্যাপী নিয়োগ করে হিন্দু মেয়েদের ভালবাসায় ফাঁসিয়ে কিংবা চাকরি দেবার নাম করে আহমেদাবাদ-কানপুর-মুম্বাই হয়ে পাকিস্তান, দুবাই, শারজাহ, সৌদি আরবের বেশ্যালয়গুলিতে পাঠানোর জন্য। দাউদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আরবে মেয়ে পাঠিয়ে অগুনতি টাকার মালিক হয়ে ওঠে আব্দুল লতিফ।
…এরপর ১৯৯৩ সালে দাউদের নির্দেশে “মুম্বাই ব্লাস্ট” করার জন্য টাকার ব্যবস্থা করে এই আব্দুল লতিফই। “মুম্বাই ব্লাস্টে” ২৯৩ জন লোক মারা যায়। কিন্তু ১৯৯৫ সালে গুজরাটের ভোটে লতিফ এবং কংগ্রেস জোট করে ভোটে লড়ার পরেও লোকে বিজেপিকেই ভোট দেয়। মুখ্যমন্ত্রী হন কেশুভাই প্যাটেল।
…গুজরাটে জাতীয়তাবাদী পার্টি বিজেপি ক্ষমতায় আসায় নিজের দিন গোনা শুরু করে লতিফ। ১৯৯৭ সালের জানুয়ারিতে মুখ্যমন্ত্রী কেশুভাই এক বাঙালি আইপিএস অফিসার “উপেন বিশ্বাস” এর নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে আব্দুল কে গ্রেপ্তার করতে বলেন। প্রায় ১০ মাসের চেষ্টায় নভেম্বর মাসে দেশবিরোধী জেহাদি আব্দুল লতিফকে এনকাউন্টারে মারতে সক্ষম হয় গুজরাট পুলিস। অচিরেই গুজরাট আব্দুল লতিফের আতঙ্ক থেকে মুক্ত হয় এবং গুজরাটের মাটি থেকে দাউদ ইব্রাহিম তথা পাকিস্তানের কব্জা উপড়ে ফেলা হয়।
.
…আপনারা একটু যুক্তিবাদী মন নিয়ে ভেবে দেখুন, এই বলিউডে দাউদের দালাল শাহরুখ খান পাকিস্তান আর দাউদের শাগরেদ আব্দুল লতিফকে হিরো বানাতে, সিনেমা বানিয়ে ভারতীয় জনতাকে কিভাবে উল্লু বানানোর চেষ্টা করছে ???
…শাহরুখ খানের পাকিস্তান, লস্কর প্রধান হাফিজ সইদ ও দাউদ উব্রাহিম প্রেম কারুর অজানা নয়। তাই একজন দেশবিরোধী ক্রিমিনাল ও জেহাদি আতঙ্কবাদী আব্দুল লতিফকে শাহরুখ যে এমনভাবে পেশ করবে যে সে আতঙ্কবাদী নয়, সে রবীনহুড – এটাই স্বাভাবিক।
.
…আমি অনেক পরিশ্রম করে, জেনে বুঝে, জেহাদি শাহরুখের “রইস” সিনেমা বানানোর পেছনে আসল সত্যটা আপনাদের জানালাম; বাকি আপনার হাতে।
…এক ক্রিমিনাল, জেহাদি আতঙ্কবাদী, যে নাকি শত শত খুন করিয়েছে, হাজার হাজার হিন্দু মেয়েকে বেশ্যালয়ে পাঠিয়েছে, মুম্বাই ব্লাস্টের মত অপরাধ করেছে, লক্ষ লক্ষ কমবয়েসি ছেলেমেয়েদের নেশার সমুদ্রে ডুবিয়ে তাদের জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে, তাকে শাহরুখের “রইস” সিনেমায় হিরোর রূপে দেখে আপনারা খুশি হবেন তো ???
…আপনাদের কি মনে হয়, এই সিনেমা নিজের কষ্টের উপার্জিত টাকা খরচ করে দেখে- শাহরুখ বকলমে দাউদকে বড়োলোক বানিয়ে আব্দুল লতিফদের মত জেহাদি আতঙ্কবাদিদের হিম্মত বাড়ানো দরকার ??? নাকি জেহাদি শাহরুখ ও দাউদের মত যারা আতঙ্কবাদীদের হিরো বানায়, তাদের উচিত জবাব দেওয়া দরকার ???
…প্রচুর পরিমানে শেয়ায় করুন। এই খবর ২৫ শে জানুয়ারির আগেই সবার কাছে পৌছানো আমাদের সামাজিক দায়িত্ব…… ভারত মাতা কি জয়……

স্বামীজীর পত্রাবলী- মিসেস লেগেটকে লিখিত

*-  :      স্বামীজীর পত্রাবলী     :  -*
*”নমঃ শ্রীযতিরাজায় বিবেকানন্দ সুরয়ে।*                           *সচ্চিৎসুখস্বরূপায় স্বামিনে তাপহারিণে।।”*
                          ।।ঔঁ।।
(মিসেস লেগেটকে লিখিত)
প্যারিস, ৩রা সেপ্টেম্বর, ১৯০০
মা,
   এ বাড়িতে আমাদের একটা খেয়ালীদের কংগ্রেস হয়ে গেল। নানা দেশের প্রতিনিধি এসেছিল – দক্ষিণে ভারত থেকে উত্তরে স্কটল্যান্ড পর্যন্ত, ইংলন্ড ও আমেরিকাও তার মধ্যে ছিল।
   সভাপতি নির্বাচনের ব্যাপারে আমাদের বিশেষ অসুবিধা হয়েছিল, কারণ ডক্টর জেমস্ (Prof. William James) যদিও উপস্থিত ছিলেন, তবু তিনি বিশ্বসমস্যা সমাধানের চেয়ে মিসেস মিল্টন (চৌম্বক আরোগ্যকারী) কর্তৃক তাঁর অঙ্গে উৎপাদিত স্ফোটকগুলি সম্বন্ধে বেশি সচেতন ছিলেন।
   আমি জো-র নাম প্রস্তাব করেছিলাম, কিন্তু তিনি তাঁর নূতন গাউন যথাসময়ে এসে না পৌঁছানোর দরুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন এবং সুবিধাজনক জায়গা থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য এক কোণে প্রস্থান করলেন।
   মিসেস বুল তৈরিই ছিলেন, কিন্তু মার্গট প্রতিবাদ করে বললেন, সে ক্ষেত্রে সভাটি তুলনামূলক দর্শনের ক্লাসে সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।
   আমরা যখন এ রকম সংকটাবস্থায় আছি, তখন তড়াক করে এক কোণ থেকে বেঁটে-খাটো গোলমত একটা মূর্তি লাফিয়ে উঠল এবং বিনা ভূমিকায় ঘোষণা করল – কেবল সভাপতির সমস্যা নয়, জীবনসমস্যা পর্যন্ত সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, যদি আমরা শুধু সূর্যদেবতা ও চন্দ্রদেবতার অর্চনা করি।
   পাঁচ মিনিটের মধ্যে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেছিলেন, কিন্তু সেটাকে অনুবাদ করতে তাঁর শিষ্যের ঝাড়া পঁয়তাল্লিশ মিনিট সময় লেগেছিল। ইতোমধ্যে উক্ত গুরুদেব আপনাদের বৈঠকখানায় কম্বলাদি টেনে স্তূপাকার করে ফেলেছিলেন এই শুভবাসনায় (যে বাসনার কথা তিনি নিজ মুখেই উচ্চারণ করেছিলেন) যে, তিনি তখনই সেখানে ‘অগ্নিদেবতার’ মহাশক্তির প্রত্যক্ষ প্রমাণ দিতে চান।
   সেই সন্ধিক্ষণে জো বাধা দিলেন এবং একগুঁয়েমির সঙ্গে বললেন, তাঁদের বৈঠকখানায় অগ্নি-যজ্ঞ তাঁর অভিপ্রেত নয়; ফলে উক্ত ভারতীয় ঋষি জো-র দিকে অতি ভয়াবহ চোখে তাকালেন, তাকে তিনি অগ্নি-উপাসনায় সম্পূর্ণ দীক্ষিত বলে সুনিশ্চিত বিশ্বাস করেছিলেন, তার এরূপ ব্যবহারে ঋষির বিরক্তির সীমা ছিল না।
   তখন ডক্টর জেমস্ তাঁর স্ফোটকের পরিচর্যা থেকে মাত্র এক মিনিট সময় বাঁচিয়ে সেই অবসরে ঘোষণা করলেন যে, অগ্নিদেবতা এবং তাঁর ভ্রাতৃগণ সম্বন্ধে তাঁর একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় বক্তব্য আছে। তা তিনি উপস্থিত করতেন, যদি স্বদেহে মিল্টনীয় স্ফোটকের বিবর্তনের ব্যাপারে তাঁকে নিতান্ত কর্মব্যস্ত না থাকতে হতো।
   তদুপরি তাঁর মহান আচার্য হার্বার্ট স্পেন্সার বিষয়টি সম্বন্ধে তাঁর পূর্বে গবেষণা করেননি বলে ডঃ জেমস্ জানালেন, তিনি মহামূল্য নীরবতাকেই দৃঢ়ভাবে আশ্রয় করবেন।
                         
*”ওঁ পরতত্ত্বে সদালীনো রামকৃষ্ণ সমাজ্ঞয়া।*
*যো ধর্মস্থাপনরতো বীরেশং তং নমাম্যহম্।।”*

এখন আমাদের প্রয়োজন চরিত্র গঠন । একমাত্র চরিত্রই বাধা বিপত্তির বজ্রদৃঢ় প্রাচীর বিদীর্ণ করিতে পারে

“এখন আমাদের প্রয়োজন চরিত্র গঠন । একমাত্র চরিত্রই বাধা বিপত্তির বজ্রদৃঢ় প্রাচীর বিদীর্ণ করিতে পারে ।
                  মানুষের চরিত্র তাহার মনের প্রবণতা বা সংস্কার রাশির সমষ্টি মাত্র । আমাদের ভাবনাই আমাদের স্বভাব গড়িয়া তোলে । বাস্তবিক, চিন্তার বিনাশ নাই এবং উহা বহুদূর প্রসারী । অতএব কি চিন্তা করিতেছ, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকিও । আমাদের প্রত্যেকটি চিন্তা আমাদের চিত্তে একটি ছাপ বা সংস্কার রাখিয়া যায় । চিত্তের উপর মুদ্রিত এই ছাপগুলির সমষ্টিই যে কোন মুহূর্তে আমাদের তৎকালীন স্বভাব নির্ধারিত করে । বস্তুতঃ এই ছাপগুলির সমষ্টিই প্রত্যেক ব্যক্তির চরিত্রের নির্ণায়ক । সৎ সংস্কার প্রবল হইলে চরিত্র হয় সৎ, অসৎ সংস্কার প্রবল হইলে হয় অসৎ । 
      অনেকগুলি ছাপ মনে জমা হইলে উহারা একত্রিত হইয়া একটি অভ্যাসে পরিণত হয় । কু-অভ্যাসের একমাত্র প্রতিকার উহার বিপরীত কোন অভ্যাসের অনুশীলন । নিজের যাবতীয় কু-অভ্যাস সামগ্রিকভাবে সদভ্যাস দ্বারা প্রতিরোধ করিতে থাক; কেবলমাত্র এই উপায়েই নিকৃষ্ট সংস্কারগুলিকে দমন করিতে পারিবে ।”    -স্বামী বিবেকানন্দ

শঠারি, মধুর কবি ও রাজা কুলশেখর আলোয়ার ~~~~স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ ।

|| শঠারি, মধুর কবি ও রাজা কুলশেখর আলোয়ার ||

এই পোষ্ট খানি করা হলো বিষ্ণুর অবতার এর উপরে । শুধুমাত্র বাংলায় নয় দক্ষিণ ভারতেও ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন শ্রীবিষ্ণুর অংশ । সে সম্পর্কে আমরা অনেকেই অজ্ঞাত ।
তাই এই লেখনী টি ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যাবার ইচ্ছে রইলো ।
যিনি বৈশাখ মাসে বিশাখা নক্ষত্রে কলিযুগের প্রারম্ভে, পান্ড্যদেশস্থ কুরুকাপুরীতে, মহাত্মা কারির ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন, আমি সেই সেনাপতি বিম্বকসেনের অবতার শঠারির পূজা করি ।
……বিম্বকসেন নারায়ণের দ্বিতীয় মূর্তি । ইনি বৈষ্ণবী সেনার অধিনায়ক । ইনি চন্দ্রের ন্যায় শুভ্রকান্তি, চতুর্ভুজ এবং সর্ববিঘ্নের বিনাশকর্তা।
বৈষ্ণবগণ শ্রীশ্রীকার্তিকেয়ের পরিবর্তে বিম্বকসেনের পূজা করেন ।
বিম্বকসেন সর্ববিঘ্নবিনাশী ও নারায়ণের সেনানায়ক ।
একদা মহাত্মা কারি সস্ত্রীক পুত্রার্থ নারায়ণমন্দিরে গমন করিয়া ব্রতোপবাসাদি করেন ।
তাহাতে পরিতুষ্ট হইয়া বিষ্ণু স্বয়ংই তাঁহাদের পুত্ররূপে অবতীর্ণ হইবেন, এইরূপ প্রত্যাদেশ করেন ।
সেই প্রত্যাদেশ অনুসারে শঠরিপুর জন্ম হয়।
শঠরিপু, শঠারি ও শঠকোপা একই অর্থে প্রযুক্ত ।
তিনি এতদৃশ প্রেমিক ও মধুরস্বভাব ছিলেন যে, তাঁহার সহিত যিনিই আলাপ করিতেন, তিনিই তাঁহাকে পরম আত্মীয় বলে জ্ঞান করিতেন ।
সকলের আত্মীয় ছিলেন বলিয়া সকলে তাঁহাকে “”উনি আমাদের আলোয়ার”‘” বলিতেন বলিয়া,
~~~তাঁহার নাম নম্মা আলোয়ার হইয়াছে ।
নম্মা শব্দের অর্থ আমাদের ।
ইহার আর একটি নাম ‘পরাংকুশ’।
কারণ ইনি সর্বজনবৈরী মোহমাতঙ্গের অঙ্কুশস্বরূপ ছিলেন ।
ইনি নীচ কুলোদ্ভব।
ইহার পিতা মহাত্মা করি একজন সম্পত্তিশালী ভুমাধিকারী ছিলেন ।
নম্মা আলোয়ার  কলিযুগের প্রথম বৎসরে অর্থাৎ ৩১০২ খ্রীস্টপূর্বাব্দে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁহার এক অতি বৃদ্ধ ভক্ত ছিল । ঐ ভক্তটি মধুরভাষায় কবিতা লিখিতে পারিতেন বলিয়া উহার নাম মধুরকবি আলোয়ার ছিল ।
ইনি যুগসন্ধিতে জন্মগ্রহণ করেন ।
 তামিল পন্ডিতগণ ইহার জন্মকাল ৩২২৪ খ্রীস্টপূর্বাব্দ স্থির করিয়াছেন ।
চৈত্র চিত্রাসমুদ্ভুতম পান্ড্যদেশে খগাংশকম্ ।
শ্রীপরাঙ্কুশসদ্ভক্তং  মধুরং কবিমাশ্রয়ে।।৭।।
চৈত্র মাসে চিত্রা নক্ষত্রে যিনি খগপতি গরুড়াংশে পান্ড্যদেশে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন,
যিনি পরাঙ্কুশ শঠরিপুর অতিশয় ভক্ত ছিলেন, আমি তাঁহার শরণাগত হই ।
ইঁহার জন্মভূমি শঠরিপুর জন্মভূমির নিকট ছিল । কুম্ভে পুনর্বসুভবং কেরল চোলপট্টনে 
কৌস্তুভাংশং ধরাধীশং কুলশেখরমাশ্রয়ে ।।
যিনি ফাল্গুনমাসের পুনর্বসু নক্ষত্রে শ্রীবিষ্ণুর কৌস্তুভাংশে কেরল বা মালাবার দেশস্থ চোলপট্টন বা  তিরুভঞ্জিক্কোলম্ নামক নগরে জন্মগ্রহণ করেন, যিনি কেরলের অধিপতি ছিলেন, আমি সেই রাজা কুলশেখরের শরণাগত হই ।
ইনি ‘মুকুন্দমালা’র রচয়িতা । ইহার ন্যায় ভক্ত অতি বিরল । বৃহস্পতিবার শুক্লা দ্বাদশীতে ৩১০২ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে ইঁহার জন্ম হয় ।
ইনি রাজর্ষির ন্যায় দীপ্তিশালী ছিলেন বলিয়া বৈষ্ণবরা ইঁহাকে নারায়ণের কৌস্তুমণির অংশবতার বলিয়া পূজা করেন ।।
~~~~স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ ।
জয় রামকৃষ্ণ ।।

..**অষ্টাবক্র** বাল্মিকী মুনির সংস্কৃত রামায়ণ ও বাংলা কৃত্তিবাসী রামায়ণ অনুসারে একজন মুনি ছিলেন যার দেহের আটটি স্থান বাঁকা ছিল

### ..**অষ্টাবক্র** বাল্মিকী মুনির সংস্কৃত রামায়ণ ও বাংলা কৃত্তিবাসী রামায়ণ অনুসারে একজন মুনি ছিলেন যার দেহের আটটি স্থান বাঁকা ছিল। রাজর্ষি জনক এর সাথে তাঁর অদ্বৈতবাদ বিষয়ে কথোপকথন অষ্টাবক্র গীতা নামে পরিচিত।
জন্ম…>>
উদ্দালক-কন্যা সুজাতা ও উদ্দালক-শিষ্য কহোড়ের পুত্র। অষ্টাবক্র মাতৃগর্ভেই বেদজ্ঞান লাভ করেছিলেন। একদিন বেদপাঠরত কহোড়কে তিনি মাতৃগর্ভ থেকেই বলেন যে, কহোড়ের বেদপাঠ ঠিক হচ্ছে না। মহর্ষি কহোড় তাতে ক্রুদ্ধ হয়ে গর্ভস্থ পুত্রকে শাপ দিলেন যে, তার দেহ অষ্টস্থানে বক্র হবে। অষ্টাবক্র তখনও ভূমিষ্ঠ হন নি ওঁর পিতা অর্থোপার্জনের আশায় জনক রাজার কাছে যান। সেখানে বন্দী নামে এক পণ্ডিত থাকতেন,যাঁর সঙ্গে তর্কে পরাস্ত হলে রাজ আজ্ঞায় পরাজিতদের জলে ডুবিয়ে দেওয়া হত। কহোড় তর্কে বন্দীর কাছে পরাস্ত হওয়ায় তাঁরও সেই গতি হল। অষ্টাবক্র শিশু অবস্থায় জানতেন না যে, তাঁর পিতার মৃত্যু হয়েছে – তিনি উদ্দালককেই পিতা বলে জানতেন।…>>
পিতাকে উদ্ধার…@
বালক বয়সে তিনি যখন মাতা সুজাতার কাছে পিতার মৃত্যুর কারণ জানতে পারলেন,তখন তিনি মাতুল শ্বেতকেতুকে নিয়ে জনক রাজার কাছে গেলেন। সেখানে বন্দীকে তর্কে পরাস্ত করে তিনি বললেন যে, বন্দী যেরকম পরাজিত ব্রাহ্মণদের জলে ডুবিয়েছিলেন,এবার সেই ভাবে বন্দীকে জলে ডোবানো হোক। বন্দী তখন নিজেকে বরুণের পুত্র বলে পরিচয় দিয়ে বললেন যে, তিনি ব্রাহ্মণদের জলের মধ্যে পিতা বরুণের যজ্ঞ দেখতে পাঠিয়েছিলেন। তাঁরা এখন সবাই ফিরে আসবেন। তবে উনি অষ্টাবক্রের সম্মানে জলের মধ্যে অন্তর্ধান করে পিতার সঙ্গে মিলিত হবেন। কহোড় ও অন্যান্য ব্রাহ্মণরা ফিরে এলে বন্দী সমুদ্রে প্রবেশ করলেন। কহোড় পুত্র গর্বে পরম প্রীত হয়ে অষ্টাবক্রকে একটি নদীতে প্রবেশ করতে বললেন। সেই নদী থেকে উঠতেই অষ্টাবক্রের দেহ আর বক্র রইলো না।..>>
বিবাহ…@
বদান্য ঋষির কন্যাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে অষ্টাবক্র তাঁকে বিবাহ করতে চাইলে, বদান্য অষ্টাবক্রকে বললেন যে, উত্তর দিকে যাত্রা করে কুবের-ভবন অতিক্রম করে এক রমণীয় বনে পৌঁছে – সেখানে এক তপস্বিনীর সঙ্গে দেখা করে ফিরে এলে তারপর উনি ওঁর কন্যাকে দান করবেন। অষ্টাবক্র বহু পথ অতিক্রম করে সেই বনে পৌঁছে এক দিব্য আশ্রমের কাঞ্চনময় ভবনে প্রবেশ করলেন। সেই ভবনে কয়েকটি সুন্দরী নারীর সঙ্গে এক বৃদ্ধা রমণী ছিলেন। সেইখানে থাকাকালীন সেই বৃদ্ধা অষ্টাবক্রের শয্যায় এসে ওঁর সঙ্গে মিলিত হবার চেষ্টা করতেন। অষ্টাবক্রকে লোভ দেখাতেন যে, ওঁর কামনা পূর্ণ করলে ওঁর রমণীয় আশ্রম সমেত সব ধন অষ্টাবক্রের হবে। অষ্টাবক্রের কাছে প্রত্যাখ্যিত হবার পর এক রাত্রে তিনি পরম রূপবতী কন্যায় রূপান্তরিত হয়ে অষ্টাবক্রকে প্রলোভিত করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু অষ্টাবক্র প্রলোভিত হলেন না। তখন সেই বৃদ্ধা নিজেকে উত্তরদিকের অধিষ্ঠাত্রী দেবী বলে পরিচয় দিয়ে বললেন যে, তিনি বদান্যের অণুরোধে অষ্টাবক্রকে পরীক্ষা করছিলেন। আরও বললেন যে, অষ্টাবক্র যেন মনে রাখেন যে, স্ত্রী জাতি চপলা এবং স্থবিরা স্ত্রীরও কামজ্বর হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অষ্টাবক্র ফিরে এসে বদান্য-কন্যা সুপ্রভাকে বিবাহ করেন।
**অষ্টাবক্র গীতা**….@
রাজর্ষি জনক অষ্টবক্র মুনির কাছে জ্ঞান, মুক্তি ও বৈরাগ্য লাভের উপায় জানতে চেয়েছিলেন। তাঁর জিজ্ঞাসার উত্তরে অষ্টবক্র মুনি যা বলেছেন তা পরবর্তীতে অষ্টাবক্র গীতা নামে বিশটি অধ্যায়ে সংকলিত হয়েছে। এতে অদ্বৈতবাদ ও সমদর্শন বিষয়ে গভীর আলোচনা করা হয়েছে।…###

খুড়িমা নির্জলা উপবাস করিয়াছেন; আগের দিনেও বাড়ির কি একটা কার্যবশত তিনি অন্নগ্রহণ করেন নাই।

*- :      শ্রী শ্রী মায়ের জীবনকথা      : -*

*”ওঁ যথাগ্নের্দাহিকা শক্তিঃ রামকৃষ্ণে স্থিতা হি যা।*
*সর্ববিদ্যাস্বরূপাং তাং সারদাং প্রণমাম্যহম।।”*
   এই বিষয়ে শ্রীমায়ের স্বাভাবিক বিচারশক্তি ও সহানুভূতি শ্রীশ্রীঠাকুরের একদিনের ব্যবহার দ্বারা প্রভাবিত হইয়াছিল বলিয়া মনে হয়।
   সেদিন একাদশী; শ্রীযুক্ত যোগীন-মা তাঁহার বিধবা খুড়িমাকে লইয়া দক্ষিণেশ্বরে গিয়াছেন। খুড়িমা নির্জলা উপবাস করিয়াছেন; আগের দিনেও বাড়ির কি একটা কার্যবশত তিনি অন্নগ্রহণ করেন নাই।
   একে তো বার্ধক্যের জন্য তিনি সোজা হইয়া চলিতে পারিতেন না তাহার উপর দুইদিন উপবাসে খুবই কাতর হইয়া পড়িয়াছেন।
Sri Sarada Devi
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; direction: ltr; font-variant: normal; color: #181818; letter-spacing: normal; line-height: 120%; text-align: left; orphans: 2; widows: 2; text-decoration: none } p.western { font-family: “Merriweather”, “Georgia”, serif; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } p.cjk { font-size: 15pt } p.ctl { font-family: “inherit”; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } a:link { so-language: zxx }

Sri Sarada Devi
   দক্ষিণেশ্বরে পৌঁছিয়া তিনি প্রথমে নহবতের দিকে গেলে মা দেখিলেন, বৃদ্ধা হাঁপাইতেছেন; সুতরাং তাড়াতাড়ি আগাইয়া গিয়া হাত ধরিয়া আনিয়া তাঁহাকে ঘরে বসাইলেন এবং জিজ্ঞাসা করিলেন, *”একটু শরবত দেব?”* বৃদ্ধা মাথা নাড়িয়া অসম্মতি জানাইলেন।
   খুড়িমা একটু সুস্থ হইলে যোগীন-মা তাঁহাকে ঠাকুরের ঘরে লইয়া চলিলেন; শ্রীমাও সঙ্গে গেলেন।
   ঘরের সিঁড়িতে উঠিতে গিয়া বৃদ্ধা একেবারে মাটিতে ঝুঁকিয়া পড়িতেছেন দেখিয়া ঠাকুর একপ্রকার ছুটিয়া আসিয়া তাঁহাকে ধরিলেন এবং যোগীন-মাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “এমন হাঁপাচ্ছে কেন?”
   যোগীন-মা কারণ বলিলেন। অমনি উদ্বেগভরে মায়ের দিকে চাহিয়া ঠাকুর বলিলেন, “তুমি একে একটু শরবত খাইয়ে দিতে পারলে না?” মা উত্তর দিলেন, *”আমি বলেছিলুম; ইনি রাজি হননি।”*
   ঠাকুর তখনি শিকা হইতে চিনি নামাইয়া গঙ্গাজলে শরবত করিয়া বৃদ্ধার মুখে ধরিয়া বলিলেন, “খাও।” বৃদ্ধা একবার অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে ঠাকুরের দিকে চাহিলেন; পরে বিনা বাক্যব্যয়ে শরবতটুকু পান করিয়া বুকে হাত দিয়া বলিলেন, “বুকটা ঠান্ডা হলো, বাবা।”
   উত্তরকালে বালবিধবা শ্রীমতী ক্ষীরোদবালা রায় মায়ের নিকট দীক্ষা লইতে গেলে মা জিজ্ঞাসা করিলেন, *”বাছা, তুমি একাদশীতে কি খাও?”*
   ক্ষীরোদবালা আগে সাগু খাইতেন, কিন্তু পরে উহাতে বিধবার অগ্রহণীয় বস্তু ভেজাল দেওয়া আছে ভাবিয়া কিছুই খাইতেন না। এইরূপ কঠোরতার ফলে তাঁহার শরীর অতি শীর্ণ হইয়াছে।
   মা দেখিয়া শুনিয়া বলিলেন, *”না, না, আমি বলছি, তুমি সাগু খেও, এতে শরীর ঠান্ডা থাকে।”* একটু থামিয়া বলিলেন, *”বাছা, অনেক কঠোর করেছ; আমি বলছি, আর করো না। দেহটাকে একেবারে কাঠ করে ফেলেছ। দেহ নষ্ট হলে কি নিয়ে ভজন করবে, মা?”*
   ক্ষীরোদবালার মাথার চুল দেশাচার অনুযায়ী ছোট করিয়া কাটা ছিল বলিয়া গোলাপ-মা ও যোগীন-মা উহার অযৌক্তিকতা দেখাইয়া সহানুভূতি প্রকাশ করিলেন।
   কিন্তু মা বাধা দিয়া বলিলেন, *”বেশ তো করেছে; চুল থাকলে একটু বিলাসিতার ভাব আসে, চুলের যত্ন করতে হয়। যাই হোক, মা, কেশের সেতু পার হয়ে তুমি এখানে এসে পৌঁছেছ। যার জন্যে এত কঠোরতা, তোমার সে কাজ হয়ে গেছে। এখন আমি বলছি, আর কঠোরতা করো না।”*
   মায়ের কথাগুলিতে করুণা ও ভাগবতী দৃষ্টির – বিলাসিতা-পরিহারের সহিত ঈশ্বরলাভের উপায়ভূত দেহরক্ষার জন্য আগ্রহের – কি অপূর্ব সমাবেশ! পরবর্তী দৃষ্টান্তগুলি এই ভাবেরই দ্যোতক।
*”জননীং সারদাং দেবীং রামকৃষ্ণং জগদ্‌গুরুম্।*
*পাদপদ্মে তয়ো শ্রিত্বা প্রণমামি মুহুর্মুহুঃ।।”*
Design a site like this with WordPress.com
Get started