তুমি মা সারদা = সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
তুমি মা সারদা
=============
★সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়★
——————————–
ছয়
এরপরে ভয়ঙ্কর একটা এলোমেলো অবস্থা। কাশীপুর থেকে মা এলেন বলরাম বসুর বাড়িতে। সেখান থেকে ভাদ্র মাসের ১৫ তারিখে মা যাত্রা করলেন বৃন্দাবনে। সঙ্গে আছেন স্বামী যোগানন্দ, অভেদানন্দ, অদ্ভুতানন্দ, লক্ষ্মীদেবী, গোলাপ-মা আর নিকুঞ্জদেবী। প্রথমে নামলেন দেওঘরে। ঠাকুরের এক মহালীলাস্থল। তারপরে গেলেন কাশীধাম। এটিও ঠাকুরের এক মহালীলা ক্ষেত্র। বিশ্বনাথের মন্দিরে মা আরতি দর্শন করছেন। হঠাৎ দেখছেন উজ্বল শরীরে ঠাকুর মায়ের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। মা ভাবের ঘরে চলে গেলেন। সঙ্গীরা দেখছেন মা দুম দুম শব্দে পা ফেলে ফেলে বাসায় ফিরলেন। ফিরে এসেই শুয়ে পড়লেন।প্রকৃতিস্থ হওয়ার পর সবাই জিজ্ঞেস করলেন—-‘কি হয়েছিল মা!’ মা বললেন, ‘ঠাকুর আমাকে হাত ধরে মন্দির থেকে নিয়ে এলেন।’
টানা ছ ঘন্টা রুগী দেখে ভেতরবাড়িতে খেতে ঢোকেন। আবার বিকেল চারটে থেকে চেম্বার শুরু হয়ে যায়।
অণুগল্প —
ডাক্তারবাবু সকাল আটটায় রুগী দেখা শুরু করেন। টানা ছ ঘন্টা রুগী দেখে ভেতরবাড়িতে খেতে ঢোকেন। আবার বিকেল চারটে থেকে চেম্বার শুরু হয়ে যায়।
মেমারি থানার নতুন দারোগা তারাপদ ঘোষাল চিন্তিত মুখে বললেন, হুঁ, খবর দাও। আমি অবশ্য ভেতরে গিয়েই দেখা করব।
করুণা ডাক্তার বেরিয়ে এসে বললেন, করেছেন কি পুলিশ-সাহেব? একেবারে পাইক-বরকন্দাজ নিয়ে সম্মুখ সমরে? কোমরে দড়ি পরাতে এলেন নাকি?
তারাপদ দারোগা একটু হেসে বললেন, না, কিন্তু ব্যাপারটা গুরুতর। চলুন ভেতরে চলুন, বলছি।
ইনি সেই ব্যাক্তি যিনি তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, "Vivekananda entered my life." তিনি লিখেছেন, ‘ত্যাগে বেহিসাবি, কর্মে বিরামহীন, প্রেমে সীমাহীন স্বামীজির জ্ঞান ছিল যেমন গভীর তেমনি বহুমুখী।
ইনিই নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস। তাঁর অন্তরঙ্গ বাল্যবন্ধু চারুচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায় এক সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, ‘ সুভাষের সঙ্গে আবাল্য খুব ঘনিষ্ঠ ভাবে মিশেছি। তাই জোর করে বলতে পারি যে, বিবেকানন্দের প্রভাব যদি সুভাষের উপর না পড়ত তবে সুভাষ “সুভাষ” হত না, “নেতাজী” হত না। হয়ত অ্যাডভোকেট জেনারেল হত কিম্বা ব্যারিস্টার হত, কিন্তু আইএনএ যে ফর্ম করেছে সেই “নেতাজী সুভাষচন্দ্র”কে আমরা পেতাম না।’
তাঁর প্রভাবেই বালক সুভাষের মধ্যে প্রকৃতিপ্রেম, কাব্য ও সৌন্দর্যচেতনা, আদর্শবাদ ও নীতিবোধের স্ফুরণ ঘটে। কিন্তু বালক সুভাষ ব্যাকুল প্রাণে এমন একটি আদর্শের সন্ধান করছিলেন যার ওপর ভিত্তি করে সমস্ত জীবনকে গড়া যায়, যা তাঁর সমস্ত সত্ত্বাকে আলোড়িত করতে পারে।
এমন সময় এক সহপাঠীর (আত্মজীবনী মতে সহপাঠীর নাম: সুহৃদচন্দ্র মিত্র) মাধ্যমে তাঁর হাতে এল- ‘স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা।’ এবং তারপর…………. আসুন নেতাজীর মুখেই শুনি-
“কয়েক পাতা উলটেই বুঝতে পারলাম, এই জিনিসই আমি এতদিন ধরে চাইছিলাম। বইগুলো বাড়ি নিয়ে এসে গোগ্রাসে গিলতে লাগলাম। পড়তে পড়তে হৃদয়-মন আচ্ছন্ন হয়ে যেতে লাগল। ………..
দিনের পর দিন কেটে যেতে লাগল, আমি তাঁর বই নিয়ে তন্ময় হয়ে রইলাম।…………. বিবেকানন্দের প্রভাব আমার জীবনে আমূল পরিবর্তন এনে দিল।…. তাঁর মধ্যে আমার জীবনের অসংখ্য জিজ্ঞাসার সহজ সমাধান খুঁজে পেয়েছিলাম।”
(আত্মজীবনী: ‘ভারত পথিক’, পৃষ্ঠা: ৪৩-৪৪)
শাহরুখ খানের ছবি "রইস"।
…অর্থাৎ এই পোস্টের মূল উদ্দেশ্য, বাস্তব জীবনে এক জেহাদি আতঙ্কবাদী আব্দুল লতীফের আসল কাহিনী আপনাদের জানানো। যদি মনে করেন শাহরুখ আমার প্রিয় নায়ক, তার ছবি তো দেখতে যাবই; তবে তার আগে জেনে নিন কে ছিল এই আব্দুল লতীফ ???
.
…আব্দুল লতীফের জন্ম আহমেদাবাদের কালুপুর নামক এক মুসলিম বহুল এলাকায়। আব্দুল লতিফরা ছয় ভাই বোন। এত ভাইবোন, তাই তাদের আর্থিক স্থিতি ভাল ছিল না। এই কারনে টাকার জন্য আব্দুল লতীফ এক মদ বিক্রেতা “আল্লা রাখা”র সংঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। আস্তে আস্তে দুই জন মিলে নকল মদের দুই নম্বরী কারবার করতে থাকে। এতে অনেক টাকার মালিক হয় আব্দুল লতীফ।
…১৯৯০ এর দশকে আব্দুল লতীফ পাকিস্তানে গিয়ে ভারতের পয়লা নম্বর শত্রু দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে দেখা করে। সেখানে আব্দুল ভারতে তার দুই নম্বরী ব্যাবসায় দাউদের সাহায্যের আশ্বাস পায়, বদলে ভারতে দাউদের জেহাদি আতঙ্ক ছড়িয়ে দেবার ক্ষেত্রে দাউদকে সাহায্য করবার আশ্বাস দেয়। এছাড়াও ভারতে দাউদ ও আব্দুল মিলে নানান বেআইনি ব্যাবসা শুরুর চুক্তিও হয়।
…দাউদের সঙ্গে দেখা করার পর থেকেই আব্দুল লতিফ ভারতে জেহাদি আতঙ্ক ছড়ানো শুরু করে চুক্তি অনুযায়ী। কিছুদিনের মধ্যেই আব্দুল লতিফ খুন, চুরি, তোলা আদায়, দু-নম্বরী মদ, চরস, হাসিস, গাঁজার ব্যাবসা ও কিডন্যাপ করে টাকা আদায়কারী ডন হিসাবে কুখ্যাত হয়। ৪০ টি খুন সহ উপরিউক্ত বেআইনি কাজগুলির জন্যে ৯৭ টি কেসে গুজরাটে মোস্ট ওয়ান্টেড হয়ে ওঠে সে।
…এর মধ্যেই আব্দুল লতীফ ও তার লোকজন কংগ্রেস পার্টি থেকে টিকিট নিয়ে কালুপুর কর্পোরেশন নির্বাচনে ৫ টি সিটে জেতে। নেতা হয়ে দাউদের সঙ্গে মিলে “হিউম্যান ট্র্যাফিকিং” এর জাল ছড়ায়। মাথার ওপর কংগ্রেসি নেতাদের হাত থাকায়, আব্দুল হাজার হাজার মুসলিম ছেলেকে ভারতব্যাপী নিয়োগ করে হিন্দু মেয়েদের ভালবাসায় ফাঁসিয়ে কিংবা চাকরি দেবার নাম করে আহমেদাবাদ-কানপুর-মুম্বাই হয়ে পাকিস্তান, দুবাই, শারজাহ, সৌদি আরবের বেশ্যালয়গুলিতে পাঠানোর জন্য। দাউদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আরবে মেয়ে পাঠিয়ে অগুনতি টাকার মালিক হয়ে ওঠে আব্দুল লতিফ।
…এরপর ১৯৯৩ সালে দাউদের নির্দেশে “মুম্বাই ব্লাস্ট” করার জন্য টাকার ব্যবস্থা করে এই আব্দুল লতিফই। “মুম্বাই ব্লাস্টে” ২৯৩ জন লোক মারা যায়। কিন্তু ১৯৯৫ সালে গুজরাটের ভোটে লতিফ এবং কংগ্রেস জোট করে ভোটে লড়ার পরেও লোকে বিজেপিকেই ভোট দেয়। মুখ্যমন্ত্রী হন কেশুভাই প্যাটেল।
…গুজরাটে জাতীয়তাবাদী পার্টি বিজেপি ক্ষমতায় আসায় নিজের দিন গোনা শুরু করে লতিফ। ১৯৯৭ সালের জানুয়ারিতে মুখ্যমন্ত্রী কেশুভাই এক বাঙালি আইপিএস অফিসার “উপেন বিশ্বাস” এর নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে আব্দুল কে গ্রেপ্তার করতে বলেন। প্রায় ১০ মাসের চেষ্টায় নভেম্বর মাসে দেশবিরোধী জেহাদি আব্দুল লতিফকে এনকাউন্টারে মারতে সক্ষম হয় গুজরাট পুলিস। অচিরেই গুজরাট আব্দুল লতিফের আতঙ্ক থেকে মুক্ত হয় এবং গুজরাটের মাটি থেকে দাউদ ইব্রাহিম তথা পাকিস্তানের কব্জা উপড়ে ফেলা হয়।
.
…আপনারা একটু যুক্তিবাদী মন নিয়ে ভেবে দেখুন, এই বলিউডে দাউদের দালাল শাহরুখ খান পাকিস্তান আর দাউদের শাগরেদ আব্দুল লতিফকে হিরো বানাতে, সিনেমা বানিয়ে ভারতীয় জনতাকে কিভাবে উল্লু বানানোর চেষ্টা করছে ???
…শাহরুখ খানের পাকিস্তান, লস্কর প্রধান হাফিজ সইদ ও দাউদ উব্রাহিম প্রেম কারুর অজানা নয়। তাই একজন দেশবিরোধী ক্রিমিনাল ও জেহাদি আতঙ্কবাদী আব্দুল লতিফকে শাহরুখ যে এমনভাবে পেশ করবে যে সে আতঙ্কবাদী নয়, সে রবীনহুড – এটাই স্বাভাবিক।
.
…আমি অনেক পরিশ্রম করে, জেনে বুঝে, জেহাদি শাহরুখের “রইস” সিনেমা বানানোর পেছনে আসল সত্যটা আপনাদের জানালাম; বাকি আপনার হাতে।
…এক ক্রিমিনাল, জেহাদি আতঙ্কবাদী, যে নাকি শত শত খুন করিয়েছে, হাজার হাজার হিন্দু মেয়েকে বেশ্যালয়ে পাঠিয়েছে, মুম্বাই ব্লাস্টের মত অপরাধ করেছে, লক্ষ লক্ষ কমবয়েসি ছেলেমেয়েদের নেশার সমুদ্রে ডুবিয়ে তাদের জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে, তাকে শাহরুখের “রইস” সিনেমায় হিরোর রূপে দেখে আপনারা খুশি হবেন তো ???
…আপনাদের কি মনে হয়, এই সিনেমা নিজের কষ্টের উপার্জিত টাকা খরচ করে দেখে- শাহরুখ বকলমে দাউদকে বড়োলোক বানিয়ে আব্দুল লতিফদের মত জেহাদি আতঙ্কবাদিদের হিম্মত বাড়ানো দরকার ??? নাকি জেহাদি শাহরুখ ও দাউদের মত যারা আতঙ্কবাদীদের হিরো বানায়, তাদের উচিত জবাব দেওয়া দরকার ???
…প্রচুর পরিমানে শেয়ায় করুন। এই খবর ২৫ শে জানুয়ারির আগেই সবার কাছে পৌছানো আমাদের সামাজিক দায়িত্ব…… ভারত মাতা কি জয়……
স্বামীজীর পত্রাবলী- মিসেস লেগেটকে লিখিত
।।ঔঁ।।
প্যারিস, ৩রা সেপ্টেম্বর, ১৯০০
*যো ধর্মস্থাপনরতো বীরেশং তং নমাম্যহম্।।”*
এখন আমাদের প্রয়োজন চরিত্র গঠন । একমাত্র চরিত্রই বাধা বিপত্তির বজ্রদৃঢ় প্রাচীর বিদীর্ণ করিতে পারে
“এখন আমাদের প্রয়োজন চরিত্র গঠন । একমাত্র চরিত্রই বাধা বিপত্তির বজ্রদৃঢ় প্রাচীর বিদীর্ণ করিতে পারে ।
মানুষের চরিত্র তাহার মনের প্রবণতা বা সংস্কার রাশির সমষ্টি মাত্র । আমাদের ভাবনাই আমাদের স্বভাব গড়িয়া তোলে । বাস্তবিক, চিন্তার বিনাশ নাই এবং উহা বহুদূর প্রসারী । অতএব কি চিন্তা করিতেছ, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকিও । আমাদের প্রত্যেকটি চিন্তা আমাদের চিত্তে একটি ছাপ বা সংস্কার রাখিয়া যায় । চিত্তের উপর মুদ্রিত এই ছাপগুলির সমষ্টিই যে কোন মুহূর্তে আমাদের তৎকালীন স্বভাব নির্ধারিত করে । বস্তুতঃ এই ছাপগুলির সমষ্টিই প্রত্যেক ব্যক্তির চরিত্রের নির্ণায়ক । সৎ সংস্কার প্রবল হইলে চরিত্র হয় সৎ, অসৎ সংস্কার প্রবল হইলে হয় অসৎ ।
অনেকগুলি ছাপ মনে জমা হইলে উহারা একত্রিত হইয়া একটি অভ্যাসে পরিণত হয় । কু-অভ্যাসের একমাত্র প্রতিকার উহার বিপরীত কোন অভ্যাসের অনুশীলন । নিজের যাবতীয় কু-অভ্যাস সামগ্রিকভাবে সদভ্যাস দ্বারা প্রতিরোধ করিতে থাক; কেবলমাত্র এই উপায়েই নিকৃষ্ট সংস্কারগুলিকে দমন করিতে পারিবে ।” -স্বামী বিবেকানন্দ
শঠারি, মধুর কবি ও রাজা কুলশেখর আলোয়ার ~~~~স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ ।
|| শঠারি, মধুর কবি ও রাজা কুলশেখর আলোয়ার ||
সেই প্রত্যাদেশ অনুসারে শঠরিপুর জন্ম হয়।
~~~তাঁহার নাম নম্মা আলোয়ার হইয়াছে ।
ইনি নীচ কুলোদ্ভব।
শ্রীপরাঙ্কুশসদ্ভক্তং মধুরং কবিমাশ্রয়ে।।৭।।
..**অষ্টাবক্র** বাল্মিকী মুনির সংস্কৃত রামায়ণ ও বাংলা কৃত্তিবাসী রামায়ণ অনুসারে একজন মুনি ছিলেন যার দেহের আটটি স্থান বাঁকা ছিল
### ..**অষ্টাবক্র** বাল্মিকী মুনির সংস্কৃত রামায়ণ ও বাংলা কৃত্তিবাসী রামায়ণ অনুসারে একজন মুনি ছিলেন যার দেহের আটটি স্থান বাঁকা ছিল। রাজর্ষি জনক এর সাথে তাঁর অদ্বৈতবাদ বিষয়ে কথোপকথন অষ্টাবক্র গীতা নামে পরিচিত।
জন্ম…>>
উদ্দালক-কন্যা সুজাতা ও উদ্দালক-শিষ্য কহোড়ের পুত্র। অষ্টাবক্র মাতৃগর্ভেই বেদজ্ঞান লাভ করেছিলেন। একদিন বেদপাঠরত কহোড়কে তিনি মাতৃগর্ভ থেকেই বলেন যে, কহোড়ের বেদপাঠ ঠিক হচ্ছে না। মহর্ষি কহোড় তাতে ক্রুদ্ধ হয়ে গর্ভস্থ পুত্রকে শাপ দিলেন যে, তার দেহ অষ্টস্থানে বক্র হবে। অষ্টাবক্র তখনও ভূমিষ্ঠ হন নি ওঁর পিতা অর্থোপার্জনের আশায় জনক রাজার কাছে যান। সেখানে বন্দী নামে এক পণ্ডিত থাকতেন,যাঁর সঙ্গে তর্কে পরাস্ত হলে রাজ আজ্ঞায় পরাজিতদের জলে ডুবিয়ে দেওয়া হত। কহোড় তর্কে বন্দীর কাছে পরাস্ত হওয়ায় তাঁরও সেই গতি হল। অষ্টাবক্র শিশু অবস্থায় জানতেন না যে, তাঁর পিতার মৃত্যু হয়েছে – তিনি উদ্দালককেই পিতা বলে জানতেন।…>>
পিতাকে উদ্ধার…@
বালক বয়সে তিনি যখন মাতা সুজাতার কাছে পিতার মৃত্যুর কারণ জানতে পারলেন,তখন তিনি মাতুল শ্বেতকেতুকে নিয়ে জনক রাজার কাছে গেলেন। সেখানে বন্দীকে তর্কে পরাস্ত করে তিনি বললেন যে, বন্দী যেরকম পরাজিত ব্রাহ্মণদের জলে ডুবিয়েছিলেন,এবার সেই ভাবে বন্দীকে জলে ডোবানো হোক। বন্দী তখন নিজেকে বরুণের পুত্র বলে পরিচয় দিয়ে বললেন যে, তিনি ব্রাহ্মণদের জলের মধ্যে পিতা বরুণের যজ্ঞ দেখতে পাঠিয়েছিলেন। তাঁরা এখন সবাই ফিরে আসবেন। তবে উনি অষ্টাবক্রের সম্মানে জলের মধ্যে অন্তর্ধান করে পিতার সঙ্গে মিলিত হবেন। কহোড় ও অন্যান্য ব্রাহ্মণরা ফিরে এলে বন্দী সমুদ্রে প্রবেশ করলেন। কহোড় পুত্র গর্বে পরম প্রীত হয়ে অষ্টাবক্রকে একটি নদীতে প্রবেশ করতে বললেন। সেই নদী থেকে উঠতেই অষ্টাবক্রের দেহ আর বক্র রইলো না।..>>
বিবাহ…@
বদান্য ঋষির কন্যাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে অষ্টাবক্র তাঁকে বিবাহ করতে চাইলে, বদান্য অষ্টাবক্রকে বললেন যে, উত্তর দিকে যাত্রা করে কুবের-ভবন অতিক্রম করে এক রমণীয় বনে পৌঁছে – সেখানে এক তপস্বিনীর সঙ্গে দেখা করে ফিরে এলে তারপর উনি ওঁর কন্যাকে দান করবেন। অষ্টাবক্র বহু পথ অতিক্রম করে সেই বনে পৌঁছে এক দিব্য আশ্রমের কাঞ্চনময় ভবনে প্রবেশ করলেন। সেই ভবনে কয়েকটি সুন্দরী নারীর সঙ্গে এক বৃদ্ধা রমণী ছিলেন। সেইখানে থাকাকালীন সেই বৃদ্ধা অষ্টাবক্রের শয্যায় এসে ওঁর সঙ্গে মিলিত হবার চেষ্টা করতেন। অষ্টাবক্রকে লোভ দেখাতেন যে, ওঁর কামনা পূর্ণ করলে ওঁর রমণীয় আশ্রম সমেত সব ধন অষ্টাবক্রের হবে। অষ্টাবক্রের কাছে প্রত্যাখ্যিত হবার পর এক রাত্রে তিনি পরম রূপবতী কন্যায় রূপান্তরিত হয়ে অষ্টাবক্রকে প্রলোভিত করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু অষ্টাবক্র প্রলোভিত হলেন না। তখন সেই বৃদ্ধা নিজেকে উত্তরদিকের অধিষ্ঠাত্রী দেবী বলে পরিচয় দিয়ে বললেন যে, তিনি বদান্যের অণুরোধে অষ্টাবক্রকে পরীক্ষা করছিলেন। আরও বললেন যে, অষ্টাবক্র যেন মনে রাখেন যে, স্ত্রী জাতি চপলা এবং স্থবিরা স্ত্রীরও কামজ্বর হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অষ্টাবক্র ফিরে এসে বদান্য-কন্যা সুপ্রভাকে বিবাহ করেন।
**অষ্টাবক্র গীতা**….@
রাজর্ষি জনক অষ্টবক্র মুনির কাছে জ্ঞান, মুক্তি ও বৈরাগ্য লাভের উপায় জানতে চেয়েছিলেন। তাঁর জিজ্ঞাসার উত্তরে অষ্টবক্র মুনি যা বলেছেন তা পরবর্তীতে অষ্টাবক্র গীতা নামে বিশটি অধ্যায়ে সংকলিত হয়েছে। এতে অদ্বৈতবাদ ও সমদর্শন বিষয়ে গভীর আলোচনা করা হয়েছে।…###
খুড়িমা নির্জলা উপবাস করিয়াছেন; আগের দিনেও বাড়ির কি একটা কার্যবশত তিনি অন্নগ্রহণ করেন নাই।
*- : শ্রী শ্রী মায়ের জীবনকথা : -*
*সর্ববিদ্যাস্বরূপাং তাং সারদাং প্রণমাম্যহম।।”*
*পাদপদ্মে তয়ো শ্রিত্বা প্রণমামি মুহুর্মুহুঃ।।”*


