– তা হ্যাঁ বাবা, ঠাকুরের কাছে কি চাইলে তুমি ?
– ছেলেটির চট জলদি উত্তর দিল
” #আমাকে_তোমার_চরণে_রেখ “|
বেশ প্রাণ ছোঁয়া উত্তর শুনে মহারাজ হেসে মাকে জিজ্ঞাসা করলেন আপনার শিক্ষা অতি সুন্দর, ঠাকুর এমনই সব ছোট ছেলেদেরকে এই সৎ শিক্ষা দিতেন, যাতে কাঁচা মনেতেই ঠাকুর-মায়ের ছাপ পরে যায় | আর সংসারে থেকেও যাতে ঈশ্বরকে নিয়ে চলতে পারে | খুব আনন্দ পেলাম আপনার এই শিক্ষা দেখে |
মা-টি সব শুনে বললেন, মহারাজ আমাকে ক্ষমা করবেন, আমি এসব আমি কিছুই শেখায় নি আর ওরই জেদাজেদিতে আমি বেলুড়ে এসেছি | সত্যি কথা বলতে কি আমি এত সব কিছুই জানি না | ও যা করেছে তা নিজে থেকেই করেছে |
এই শুনে মহারাজ তো বেশ অবাক হল আর বললেন মা এই ছেলেকে ঠাকুরের চরণে নিবেদন করুন, এই শিশু যে ঠাকুরের কাজের উদ্দেশ্য এসেছে, এ ওর পূর্ব সংস্কার | এই সব বলে মহারাজ ঠাকুরের প্রসাদ দিয়ে অনেক আদর করে মা আর ছেলেকে বিদায় দিলেন |
ছেলেটি ঠাকুর মন্দির থেকে যেতে চাইছে না দেখে মা ছেলের হাত ধরে টানতে টানতে ঠাকুরের মন্দির থেকে নিয়ে বেড়িয়ে যাচ্ছেন আর ছেলেটি ঠাকুরের মন্দিরের সমস্ত দিক এদিক-ওদিক চাইতে চাইতে কি যেন বিরবির করে বলতে বলতে যাচ্ছে | মা খেয়াল করে দাঁড়িয়ে পড়ে জিজ্ঞাসা করল, কি বলছিস?
– তাতে ছেলেটি উত্তর দিল, মা আমি বলছি – “#কোথাও_যদি_স্বর্গসুখ_থাকে_তো_এইখানেই_আছে |
মা তো কোন কিছু না বুঝে ছেলেকে বুঝিয়ে নিয়ে যাবার জন্য বলে ফেললেন, আচ্ছা তুই একটু বড় হয়ে যা তারপর তোকে এইখানেই স্বর্গসুখের জায়গায় দিয়ে যাব, এইবার তো খুশী!
হঠাৎ ছেলে দাঁড়িয়ে পড়ে মাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, মা তুমি কিন্তু ঠাকুরের সামনে কথা দিচ্ছ | মাও ছেলেকে শান্ত করতে বলেই ফেলল, হ্যাঁ, বাবা আমি তোমায় কথা দিচ্ছি , এখন চল বাড়ি |
দুরে দাঁড়িয়ে মহারাজ মা ছেলের কথাপকথন শুনে হেসে মনে মনে বলতে থাকল, ঠাকুর একে খেয়ে নিয়েছে এখন শুধু অপেক্ষা |
যাইহোক মাকে বুঝিয়ে ঘড়ে পাঠিয়ে দিলেন আর ছেলেটিকে মঠে রেখে তার বেশ কিছু পরে স্বামীজীর জন্মতিথিতে ব্রহ্মচর্য্য আর আশীর্বাদ দিয়ে উদ্ভোধনে পাঠালেন | ছেলেটির এবার ব্রহ্মচর্য্য নিয়ে ঠাকুরের উদ্দেশ্যে কাজ শুরু হল |
উদ্ভোধনে এসে সেই কোন ভোর থেকে উঠে ঠাকুরের ঘড় পরিস্কার করা, পূজোর জন্য সব গুছিয়ে রাখা আবার গুরুজন সন্ন্যাসীদের কাপড় কাচা , রান্নার তদারকী করা আরো সব অনেক কিছু কাজ তার দ্বায়িত্ব এসে পড়ল এবং যতদুর পর্যন্ত ঠিক ঠিক কাজ করার চেষ্টা করে চলেছিল | কিন্তু সবাই তো আর একরকম হয়ে ওঠে না তাই যে মহারাজজী ঠাকুরের পুজা করতেন সে বড় সামান্য কথায় রেগে যেতেন তাই বেশ রাগ করতেন ছেলেটির ওপর | সর্বদাই খেঁচ খেঁচ করতেন যে ঠাকুর ঘড় ঠিক মতন মোছা হয় নি, এটা ঠিক করে রাখনি, তোমার দ্বারা এ জীবন কিচ্ছু হবে না ইত্যাদি সব | ছেলেটির এত সব কাজ অভ্যেস ছিল না সে সচ্চল ঘড়ে বড় হয়ে উঠেছে | তাই সব কথা মুখ বুজে সহ্য করত | হাঁটু গেড়ে ঘড় মুছতে মুছতে তার হাঁটুতে ঘা হয়ে গেছিল তবুও ঠাকুরের কাজ মনে করে সব হাসি মুখে মেনে নিত |
ব্যাস ছেলেটি আর যায় কোথায়, ছেলেটি হঠাৎ এই কথা শুনে ভাবতে থাকল, তিনি এই কথা জানলেন কি করে? যার জন্য এই কথা বলেন, ধরপর করে উঠে মহারাজের শ্রীচরণে এসে মাথা দিয়ে কাঁদতে থাকল, চোখের জলে মহারাজের পা ভিজে যেতে থাকল | মহারাজ পিঠে হাত বোলাতে বোলাতে বলল, ওঠ আয় দেখি আমার কাছে , তোর মুখ দেখেই আমি বুঝতে পেরেছি কেন তোর মুখটি কালো পরে গেছে ! বলে ছেলেটির মাথা স্পর্শ করে জপ করে দিলেন আর বললেন ” এর পর যখন ঐ দৃশ্য দেখবি , মনে করবি ওটি তোর মা | ঠিক আছে , এখন যা শ্রীশ্রীমায়ের কথা চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে পড় |


