![]() |
| কুমারীপূজা II স্বামীজির জ্যান্ত দুর্গা |
স্বামীজির ‘ জ্যান্ত দুর্গা ‘ —–
রবিরার সেদিন ছিল , মহাঅষ্টমী । মঠে অসংখ্য নরনারী ভিড় করেছে , কেউ কেউ স্বামীজিকে দর্শন করতে এসেছে। হাজার হাজার লোকে বসে প্রসাদ গ্রহণ করছে, বিশেষ করে দরিদ্রনারায়ণের প্রতি বিশেষ যত্ন ছিল স্বামীজির নির্দেশ। কিন্তু সেদিন তিনি নিজেই জ্বরে পড়লেন।
শ্রীমা জানিয়েছেন – ” পূজার দিন লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে , ছেলেরা সবাই খাটছে ; ওমা , এইসময়ে নরেন এসে বললে – ‘ মা , আমার জ্বর করে দাও!’ ওমা , বলতে না বলতে খানিক বাদে হাড় কেঁপে জ্বর এল। আমি বলি – ‘ওমা একি হল ? এখন কি হবে ? ‘
নরেন বললে – ‘ কোন চিন্তা নেই মা, সেধে জ্বর নিলুম এই জন্যে যে , ছেলেগুলো প্রাণপণ খাটছে ,তবু কোথায় কি ত্রুটি হবে , আমি রেগে যাব , চাই কি দুচারটে থাপ্পড়ই বসিয়ে দেব। তখন ওদেরও কষ্ট হবে , আমারও। তাই ভাবলুম – কাজ কি , থাকি কিছুক্ষণ জ্বরে পড়ে !’
পরদিন সোমবার , প্রাতে সন্ধিপূজা ! ভোর সাড়ে ছটায় স্বামীজি পূজামণ্ডপে এসে বসলেন । শ্রীদুর্গামায়ের রাঙা চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিলেন। উজ্জ্বল , জ্যোতির্ময় , সহাস্য মুখমণ্ডল – ভাবগম্ভীর ভাবে বসে আছেন। স্বামীজি কুমারী পূজা করলেন। সে এক অপূর্ব দৃশ্য ! শ্রীমা তখন সেখানে উপস্থিত। সাধারণত , অষ্টমীতেই কুমারীপূজা হয় কিন্তু স্বামীজি অসুস্থ ছিলেন বলে পরের দিন করলেন। বেলুড় মঠের দুর্গাপূজার একটি বিশেষ অনুষঙ্গ হল – কুমারীপূজা।
শ্রীরামকৃষ্ণ কুমারীকে ভগবতীর অংশ বলেছেন। শ্রীমা সারদা দেবীকে ষোড়শীরূপে পূজা করা , আবার সাধনা শেষে ষোড়শীরূপিণী জগন্মাতার শ্রীচরণে তাঁর সব সাধনার ফল সমর্পণ করেন।
শ্রীরামকৃষ্ণের মতে – মাতৃভাব বড় শুদ্ধভাব, কুমারীকে দেবীরূপে দেখা , তাকে জননীজ্ঞানে পূজা করা – সেই শুদ্ধ সত্ত্বভাবেরই সার্থক প্রকাশ।
বেলুড় মঠের পূজায় মায়ের নির্দেশে পশুবলি নিষিদ্ধ হয়। তবে নিয়ম রক্ষার্থে কিছু ফল বলি হিসাবে উৎসর্গ করা হয়। তাই নবমীতে পশুবলি হয় না।
![]() |
| কুমারীপূজা II স্বামীজির জ্যান্ত দুর্গা |


