“কামিনী–কাঞ্চনই যোগের ব্যাঘাত। বস্তু বিচার করবে। মেয়েমানুষের শরীরে কি আছে — রক্ত, মাংস, চর্বি, নাড়ীভুঁড়ি, কৃমি, মুত, বিষ্ঠা এইসব। সেই শরীরের উপর ভালবাসা কেন? II কথামৃত–দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ১৮৮২, ২৪শে আগস্ট

p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120%; }

SRI RAMAKRISHNA

তব কথামৃতং তপ্তজীবনং, কবিভিরীড়িতং কল্মষাপহম্‌ ৷

শ্রবণমঙ্গলং শ্রীমদাততং, ভুবি গৃণন্তি যে ভূরিদা জনাঃ ৷৷


কথামৃতে আজকের দিন

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
১৮৮২, ২৪শে আগস্ট
কামিনীকাঞ্চনই যোগের ব্যাঘাত সাধনা ও যোগতত্ত্ব
শ্রীরামকৃষ্ণদক্ষিণেশ্বরমন্দিরে ভক্তসঙ্গে বিরাজ করিতেছেন। বৃহস্পতিবার (৯ই ভাদ্র ১২৮৯), শ্রাবণশুক্লা দশমী তিথি, ২৪শে আগস্ট ১৮৮২ খ্রীষ্টাব্দ।
আজকাল ঠাকুরের কাছে হাজরা মহাশয়, রামলাল, রাখাল প্রভৃতি থাকেন। শ্রীযুক্ত রামলাল ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র, — কালীবাড়িতে পূজা করেন। মাস্টার আসিয়া দেখিলেন উত্তরপূর্বের লম্বা বারান্দায় ঠাকুর হাজরার নিকট দাঁড়াইয়া কথা কহিতেছেন। তিনি আসিয়া ভূমিষ্ঠ হইয়া ঠাকুরের শ্রীপাদপদ্ম বন্দনা করিলেন।
ঠাকুর সহাস্যবদন। মাস্টারকে বলিতেছেন, “আর দুএকবার ঈশ্বর বিদ্যাসাগরকে দেখবার প্রয়োজন। চালচিত্র একবার মোটামুটি এঁকে নিয়ে তারপর বসে বসে রঙ ফলায়। প্রতিমা প্রথমে একমেটে, তারপর দোমেটে, তারপর খড়ি, তারপর রঙ পরে পরে করতে হয়। ঈশ্বর বিদ্যাসাগরের সব প্রস্তুত কেবল চাপা রয়েছে। কতকগুলি সৎকাজ করছে, কিন্তু অন্তরে কি আছে তা জানে না, অন্তরে সোনা চাপা রয়েছে। অন্তরে ঈশ্বর আছেন, — জানতে পারলে সব কাজ ছেড়ে ব্যাকুল হয়ে তাঁকে ডাকতে ইচ্ছা হয়।”
ঠাকুর মাস্টারের সঙ্গে দাঁড়াইয়া কথা কহিতেছেন আবার কখন কখন বারান্দায় বেড়াইতেছেন।

[সাধনা কামিনীকাঞ্চনের ঝড়তুফান কাটাইবার জন্য ]

শ্রীরামকৃষ্ণঅন্তরে কি আছে জানবার জন্য একটু সাধন চাই।
মাস্টার সাধন কি বরাবর করতে হয়?
শ্রীরামকৃষ্ণনা, প্রথমটা একটু উঠে পড়ে লাগতে হয়। তারপর আর বেশি পরিশ্রম করতে হবে না। যতক্ষণ ঢেউ, ঝড়, তুফান আর বাঁকের কাছ দিয়ে যেতে হয়, ততক্ষণ মাঝির দাঁড়িয়ে হাল ধরতে হয়, — সেইটুকু পার হয়ে গেলে আর না। যদি বাঁক পার হল আর অনুকুল হাওয়া বইল, তখন মাঝি আরাম করে বসে, হালে হাতটা ঠেকিয়ে রাখে, — তারপর পাল টাঙাবার বন্দোবস্ত করে তামাক সাজতে বসে। কামিনীকাঞ্চনের ঝড় তুফানগুলো কাটিয়ে গেলে তখন শান্তি।
[ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও যোগতত্ত্ব যোগভ্রষ্ট যোগাবস্থা — “নিবাতনিষ্কম্পমিব প্রদীপম্‌” যোগের ব্যাঘাত ]
কারু কারু যোগীর লক্ষণ দেখা যায়। কিন্তু তাদেরও সাবধান হওয়া উচিত। কামিনীকাঞ্চনইযোগের ব্যাঘাত। যোগভ্রষ্ট হয়ে সংসারে এসে পড়ে, — হয়তো ভোগের বাসনা কিছু ছিল। সেইগুলো হয়ে গেলে আবার ঈশ্বরের দিকে যাবে, — আবার সেই যোগের অবস্থা। সট্‌কা কল জানো?”
মাস্টার আজ্ঞে না দেখি নাই।
শ্রীরামকৃষ্ণদেশে আছে। বাঁশ নুইয়ে রাখে, তাতে বঁড়শি লাগানো দড়ি বাঁধা থাকে। বঁড়শিতে টোপ দেওয়া হয়। মাছ যেই টোপ খায় অমনি সড়াৎ করে বাঁশটা উঠে পড়ে। যেমন উপরে উঁচুদিকে বাঁশের মুখ ছিল সেইরূপই হয়ে যায়।
নিক্তি, একদিকে ভার পড়লে নিচের কাঁটা উপরের কাঁটার সঙ্গে এক হয় না। নিচের কাঁটাটি মন উপরের কাঁটাটি ঈশ্বর। নিচের কাঁটাটি উপরের কাঁটার সহিত এক হওয়ার নাম যোগ।
মন স্থির না হলে যোগ হয় না। সংসারহাওয়া মনরূপ দীপকে সর্বদা চঞ্চল করছে। ওই দীপটা যদি আদপে না নড়ে তাহলে ঠিক যোগের অবস্থা হয়ে যায়।
কামিনীকাঞ্চনইযোগের ব্যাঘাত। বস্তু বিচার করবে। মেয়েমানুষের শরীরে কি আছে রক্ত, মাংস, চর্বি, নাড়ীভুঁড়ি, কৃমি, মুত, বিষ্ঠা এইসব। সেই শরীরের উপর ভালবাসা কেন?
আমি রাজসিক ভাবের আরোপ করতাম ত্যাগ করবার জন্য। সাধ হয়েছিল সাচ্চা জরির পোশাক পরব, আংটি আঙুলে দেব, নল দিয়ে গুড়গুড়িতে তামাক খাব। সাচ্চা জরির পোশাক পরলাম এরা (মথুরবাবু) আনিয়ে দিলে। খানিকক্ষণ পরে মনকে বললাম, মন এর নাম সাচ্চা জরির পোশাক! তখন সেগুলোকে খুলে ফেলে দিলাম। আর ভাল লাগল না। বললাম, মন, এরই নাম শাল এরই নাম আঙটি! এরই নাম নল দিয়ে গুড়গুড়িতে তামাক খাওয়া! সেই যে সব ফেলে দিলাম আর মনে উঠে নাই।”
সন্ধ্যা আগত প্রায়। ঘরের দক্ষিণপূর্বের বারান্দায়, ঘরের দ্বারের কাছে ঠাকুর মণির সহিত নিভৃতে কথা কহিতেছেন।
শ্রীরামকৃষ্ণ(মণির প্রতি) — যোগীর মন সর্বদাই ঈশ্বরেতে থাকে, সর্বদাই আত্মস্থ। চক্ষু ফ্যালফ্যালে, দেখলেই বুঝা যায়। যেমন পাখি ডিমে তা দিচ্ছে সব মনটা সেই ডিমের দিকে, উপরে নামমাত্র চেয়ে রয়েছে! আচ্ছা আমায় সেই ছবি দেখাতে পার?
মণি যে আজ্ঞা। আমি চেষ্টা করব যদি কোথাও পাই।
ওঁ নিরঞ্জনং নিত্যমনন্তরূপং ভক্তানুকম্পাধৃতবিগ্রহং বৈ।
ঈশাবতারং পরমেশমীড্যং তং রামকৃষ্ণং শিরসা নমামি।।

"সারদা" নামেই মুক্তি II আজ আপনাদের সবাইকে মায়ের এক অজানা গল্প শোনাব।

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

SRI SARADA DEVI
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; direction: ltr; font-variant: normal; color: #181818; letter-spacing: normal; line-height: 120%; text-align: left; orphans: 2; widows: 2; text-decoration: none } p.western { font-family: “Merriweather”, “Georgia”, serif; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } p.cjk { font-size: 15pt } p.ctl { font-family: “inherit”; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } a:link { so-language: zxx }

Sri Sarada Devi

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120%; }

সারদানামেই মুক্তি

🌺 🌻 🌹
আজ আপনাদের  সবাইকে মায়ের এক অজানা  গল্প শোনাব।
আমরা সবাই মায়ের দিক থেকেই মমতার আকার দেখেছি। তাঁর মমতা কিভাবে অপরকে আত্মসাৎ করে নিয়েছে তার একটি দৃষ্টান্ত দেব আপনাদের সকলকে আজ।
দৃষ্টান্তটি একটি অনন্য সাধারণ মুমূর্ষু বালকের। বালকের বয়স নয় কি দশ বছর।  অনাথ এই বালক মায়ের বাড়ী তে থাকত। দুরারোগ্য ব্যাধিতে সে আক্রান্ত। তাকে বাঁচাবার সমস্ত চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। অবশেষে  অন্তিম মুহূর্তটি ঘনিয়ে এল। কিন্তু তখনো তার জ্ঞান সম্পূর্ণ রয়েছে। মা তার বিদায়মুহূর্তটি আসন্ন জেনে নির্দেশ দিলেন তাকে গঙ্গাতীরে নিয়ে যেতে,যাতে সেখানে সে সজ্ঞানে শেষনি:শ্বাস ত্যাগ করতে পারে। যখন সেব্যবস্থা হলো তখন নির্ভীক বালক জিজ্ঞাসা করল: ” তাহলে আমার মৃত্যু কি নিকটে?” “মায়ের আদেশবলে সকলে তার প্রশ্নকে এড়িয়ে গেলেন। ছেলেটি তৎক্ষণাৎ বলল:” নিশ্চয়ই। মাকে আমার প্রণাম। তাঁর কথা তো শুনতেই হবে। আপনারা আমাকে নিয়ে চলুন।
তখন শয্যাসহ তাকে সকলে বাইরে নিয়ে এলেন। মা বাইরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আতননেত্রে তার দিকে চেয়ে আছেন। চোখ দিয়ে অবিরল অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দ বালকের সারা গায়ে গঙ্গামাটি দিয়ে প্রথমে শ্রীরামকৃষ্ণ, তারপর শ্রীকৃষ্ণ ও অন্যান্য দেবতার নাম লিখতে লাগলেন। বালক প্রশ্ন করল: ” তোমরা কি লিখছ আমার গায়ে?” স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দ বললেন: দেবতার নাম লিখছি। প্রথমে লিখেছি শ্রীরামকৃষ্ণতারপর শ্রীকৃষ্ণ, তারপর অন্যান্য দেবতার নাম।ছেলেটি শুয়ে শুয়ে নামগুলি দেখল।
//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
তারপর বলল:সব নাম মুছে শুধু একটি নাম লেখসারদা। ঐ নামটি নিয়েই এতদিন বেঁচেছি মরণের সময় ঐ নামটি নিয়েই আমি যাব।তাই করা হলো। বালকের মুখ তখন অপূর্ব এক তৃপ্তিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে। তার দৃষ্টি মায়ের দিকেমায়ের কাছে সে শেষ বিদায় চাইছে। মা এতক্ষণ নীরবে কাঁদছিলেন,আর সামলাতে পারলেন না। ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন। সকলে বালককে কাঁধে নিয়ে গঙ্গাতীরে নিয়ে চললেন। সমস্ত পথ সে চমৎকার কথা বলছিল। নদীতীরে পৌঁছানোমাত্র তার কণ্ঠ নীরব হলো। শয্যা নামানো হলে সবাই দেখল, সে শেষনি:শ্বাস ত্যাগ করেছে।
বালক চলে গেল। পড়ে রইল তার নিস্পন্দ দেহখানি,যার ওপর অগ্নির অক্ষরে লেখা রয়েছে একটি নামসারদা সে তার জীবন দিয়ে বুঝিয়ে দিল, যে দেহটি সে নদীতীরে ফেলে গেল সেই দেহটি যাঁর কাছ থেকে সে পেয়েছিল তিনি তার এই জীবনের জননী, আর সেই দেহে যাঁর নাম বহন করে জীবননদীর পরপারে সে চলল তিনি তার জন্মজন্মান্তরের জননীঅনন্ত জীবন ধরে তার সঙ্গে তার সম্পর্ক।

জয় মা সারদা !!!

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

ধর্ম ধর্ম করে লোক – ধর্ম কি অত সোজা? II ঠাকুর এ কয়টার উপর বিশেষ লক্ষ্য রাখতেনঃ (1-5)

p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120%; }

@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% }

ধর্ম ধর্ম করে লোক – ধর্ম কি অত সোজা? – শ্রীম দর্শন।

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js (adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

SRI RAMAKRISHNA
SRI RAMAKRISHNA
//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

ঠাকুর এ কয়টার উপর বিশেষ লক্ষ্য রাখতেনঃ

প্রথম, পরিষ্কারপরিচ্ছন্নতা। প্রায়ই আলস্যের জন্যই লোক অপরিষ্কার থাকে। ঈশ্বরচিন্তা করে দেহভুল ক’জনের হচ্ছেপরিষ্কারপরিচ্ছন্ন না থাকলে ভগবানের আবির্ভাব হয় না। অন্তর্বহিঃ শৌচের দরকার। 

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
দ্বিতীয়, waste (অপব্যয়না হয়। অনেকে জিনিস নষ্ট করেতা দেখতে পারতেন না। একবার এক টুকরা লেবুর জায়গায় ছয় টুকরা কেটেছিল বলে তিরস্কার করেছিলেন কাশীপুরে। বলেছিলেনভক্তরা কত কষ্ট করে অর্থোপার্জন করেসেই অর্থে সেবা হচ্ছেতার অপব্যবহারবলতেনলক্ষ্মীছাড়া থেকে কৃপণ হওয়া ভাল। দু’টোই খারাপতবু তো যা তা নষ্ট না করে কৃপণ হওয়া ভাল। আহারের সময় অনেকে ভাতটাত কত নষ্ট করে। এসব পছন্দ করতেন না। কুকুরের জন্য দুটি রাখতে হয়। তাছাড়া যেমন আবশ্যক তেমনি নাও – নষ্ট না হয়। 

তৃতীয়ছেঁড়া কাপড় কিংবা ময়লা কাপড় পরা দেখতে পারতেন না। বলতেনসেলাইকরা কাপড় পরলে লক্ষ্মীছাড়া হয়।

চতুর্থ, এলোমেলো ভাব – যেমন এখানকার জিনিস ওখানে রাখা। যার যে স্থান সেখানে রাখা আর সাজিয়ে রাখা।
পঞ্চমনিজের রান্না নিজে করা। বলতেনভক্তরা যারা তাঁর ভজন করবেতারা নিজের দুটি চাল নিজে ফুটিয়ে নেবে। ভগবানে অর্পণ করে প্রসাদ পাবে। এতে পরের উপর নির্ভর করতে হয় নাআর সত্ত্বহানিও হয় না।
বলতেনসর্বাবস্থায় তাঁর পূজা। কোনটাই অবহেলা করা চলে না। আহার বিহারশয়নচলনবলনসর্বদা সর্ববস্তুতে তাঁর অনুধ্যান। তবে তো ধর্ম।

ধর্ম ধর্ম করে লোক – ধর্ম কি অত সোজা? – শ্রীম দর্শন।

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

শ্রীরামকৃষ্ণ (বিরক্তভাবে) — তুমি লাট সাহেবের কাছে যেতে পার টাকার জন্য,

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

তব কথামৃতং তপ্তজীবনং, কবিভিরীড়িতং কল্মষাপহম্‌ ৷শ্রবণমঙ্গলং শ্রীমদাততং, ভুবি গৃণন্তি যে ভূরিদা জনাঃ ৷৷

শ্রীরামকৃষ্ণ
শ্রীরামকৃষ্ণ

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

কাছাকাছি দিন থেকে
শ্রীরামকৃষ্ণ (বিরক্তভাবে) — তুমি লাট সাহেবের কাছে যেতে পার টাকার জন্য, আর আমি কেশব সেনের কাছে যেতে পারি না? সে ঈশ্বরচিন্তা করে, হরিনাম করে। তবে না তুমি বল ‘ঈশ্বর-মায়া-জীব-জগৎ’ — যিনি ঈশ্বর, তিনিই এই সব জীবজগৎ হয়েছেন II
 কথামৃত __শ্রীরামকৃষ্ণ
পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ
১৮৮৩, ১৯শে আগস্ট
সচ্চিদানন্দলাভের উপায়


(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জ্ঞানী ও ভক্তদের প্রভেদ

সমাধি ভঙ্গ হইল। ইতিপূর্বে নরেন্দ্র শ্রীরামকৃষ্ণের সমাধি দৃষ্টে কক্ষ ত্যাগ করিয়া পূর্বদিকের বারান্দায় চলিয়া গিয়াছেন। সেখানে হাজরা মহাশয় কম্বলাসনে হরিনামের মালা হাতে করিয়া বসিয়া আছেন। তাঁহার সঙ্গে নরেন্দ্র আলাপ করিতেছেন। এদিকে ঘরে একঘর লোক। শ্রীরামকৃষ্ণ সমাধিভঙ্গের পর ভক্তদের মধ্যে দৃষ্টিপাত করিলেন। দেখেন যে, নরেন্দ্র নাই। শূন্য তানপুরা পড়িয়া রহিয়াছে। আর ভক্তগণ সকলে তাঁর দিকে ঔৎসুক্যের সহিত চাহিয়া রহিয়াছেন।
শ্রীরামকৃষ্ণ আগুন জ্বেলে গেছে, এখন থাকল আর গেল! (কাপ্তেন প্রভৃতির প্রতি) — চিদানন্দ আরোপ কর, তোমাদেরও আনন্দ হবে। চিদানন্দ আছেই; — কেবল আবরণ ও বিক্ষেপ; বিষয়াসক্তি যত কমবে, ইশ্বরের প্রতি মতি তত বাড়বে।
কাপ্তেন কলিকাতার বাড়ির দিকে যত আসবে, কাশী থেকে তত তফাত হবে। কাশীর দিকে যত যাবে, বাড়ি থেকে তত তফাত হবে।
শ্রীরামকৃষ্ণ শ্রীমতী যত কৃষ্ণের দিকে এগুচ্ছেন, ততই কৃষ্ণের দেহগন্ধ পাচ্ছিলেন। ইশ্বরের নিকট যত যাওয়া যায়, ততই তাতে ভাবভক্তি হয়। সাগরের নিকট নদী যতই যায়, ততই জোয়ারভাটা দেখা যায়।
জ্ঞানীর ভিতর একটানা গঙ্গা বহিতে থাকে। তার পক্ষে সব স্বপ্নবৎ। সে সর্বদা স্বস্বরূপে থাকে। ভক্তের ভিতর একটানা নয়, জোয়ারভাটা হয়। হাসেকাঁদে, নাচে গায়। ভক্ত তাঁর সঙ্গে বিলাস করতে ভালবাসে কখন সাঁতার দেয়, কখন ডুবে, কখন উঠে যেমন জলের ভিতর বরফ ‘টাপুরটুপুর’ ‘টাপুরটুপুর’ করে।” (হাস্য)

[সচ্চিদানন্দ ও সচ্চিদানন্দময়ী ব্রহ্ম ও আদ্যা শক্তি অভেদ ]

জ্ঞানী ব্রহ্মকে জানতে চায়। ভক্তের ভগবান, — ষড়ৈশ্বর্যপূর্ণ সর্বশক্তিমান ভগবান। কিন্তু বস্তুতঃ ব্রহ্ম আর শক্তি অভেদ যিনি সচ্চিদানন্দ, তিনিই সচ্চিদানন্দময়ী। যেমন মণির জ্যোতিঃ ও মণি; মণির জ্যোতিঃ বললেই মণি বুঝায়, মণি বললেই জ্যোতিঃ বুঝায়। মণি না ভাবলে মণির জ্যোতিঃ ভাবতে পারা যায় না মণির জ্যোতিঃ না ভাবলে মণি ভাবতে পারা যায় না।
এক সচ্চিদানন্দ শক্তিভেদে উপাধি ভেদ তাই নানারূপ — ‘সে তো তুমিই গো তারা!’ যেখানে কার্য (সৃষ্টি, স্থিতি, প্রলয়) সেইখানেই শক্তি। কিন্তু জল স্থির থাকলেও জল, তরঙ্গ, ভুড়ভুড়ি হলেও জল। সেই সচ্চিদানন্দই আদ্যাশক্তি যিনি সৃষ্টিস্থিতিপ্রলয় করেন। যেমন কাপ্তেন যখন কোন কাজ করেন না তখনও যিনি, আর কাপ্তেন পূজা করছেন, তখনও তিনি; আর কাপ্তেন লাট সাহেবের কাছে যাচ্ছেন, তখনও তিনি; কেবল উপাধি বিশেষ।”
কাপ্তেন আজ্ঞা হাঁ, মহাশয়।
শ্রীরামকৃষ্ণ আমি এই কথা কেশব সেনকে বলেছিলাম।
কাপ্তেন কেশব সেন ভ্রষ্টাচার, স্বেচ্ছাচার, তিনি বাবু, সাধু নন।
শ্রীরামকৃষ্ণ — (ভক্তদের প্রতি) — কাপ্তেন আমায় বারণ করে, কেশব সেনের ওখানে যেতে।
কাপ্তেন মহাশয়, আপনি যাবেন, তা আর কি করব।
শ্রীরামকৃষ্ণ (বিরক্তভাবে) — তুমি লাট সাহেবের কাছে যেতে পার টাকার জন্য, আর আমি কেশব সেনের কাছে যেতে পারি না? সে ঈশ্বরচিন্তা করে, হরিনাম করে। তবে না তুমি বল ‘ঈশ্বরমায়াজীবজগৎ’ যিনি ঈশ্বর, তিনিই এই সব জীবজগৎ হয়েছেন।

@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% }

ওঁ নিরঞ্জনং নিত্যমনন্তরূপং ভক্তানুকম্পাধৃতবিগ্রহং বৈ।
ঈশাবতারং পরমেশমীড্যং তং রামকৃষ্ণং শিরসা নমামি।।

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

প্রশ্নঃ স্বামীজীর মানুষ হবার শিক্ষা বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় কেন এখনো আনা হয়নি ?

p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120%; }

১৪ই আগস্ট ১৯৪৭। 


গঙ্গার কাছেই আমাদের বাড়ি। পশ্চিম পাড়ে সূর্য অস্ত যাচ্ছে। মনে মনে বললাম– ‘পরাধীন ভারতবর্ষের শেষ সূর্য তুমি অস্ত যাচ্ছ। কাল যখন তুমি পূর্ব আকাশে উদিত হবে, তখন ভারতবর্ষ স্বাধীন’।

* * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * *

প্রশ্নঃ স্বামীজীর মানুষ হবার শিক্ষা বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় কেন এখনো আনা হয়নি ?

শ্রীনবনীহরণ মুখোপাধ্যায়ঃ  …………….স্বামীজী অনেক কথা বলেছেন, অনেক কথা লিখেছেন। তার ভিতর থেকে যে কথাটা নিয়ে আমরা কাজ করছি Be & Make’ , নিজে মানুষ হওয়া আর অন্যকে মানুষ হতে সাহায্য করা, আমার সৌভাগ্য হয়নি আর কোথাও এই কথাটি শোনার। স্বামীজী এরকম মুল্যবান একটি কথা বলেছেন, আর সেটা নিয়ে যে কিছু করা যায়, এ কথাটির যে একটা গুরুত্ব আছে, সেটি মহামণ্ডল হওয়ার আগে আমরা অন্তত শুনিনি। জানিনা অন্য কেউ শুনেছে কিনা।
এখন যারা দেশ চালাচ্ছেন, যারা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেন, তারা কি ভাবেন মানুষ গড়ার কথা, তাদের কোনও ধারণা আছে  Be & Make’সম্পর্কে ? মানুষ যে হওয়া যায় বা মানুষ যে হতে হয় একথা জানেন তারা ? শিক্ষার উন্নতির জন্য কি করছেননতুন নতুন স্কুল – কলেজ – ইউনিভার্সিটি করছেন, আর সেখানে নতুন নতুন সাবজেক্ট খুলছেন, সিলেবাস বাড়াচ্ছেন। শিক্ষা কাকে বলে জানেন তারা ? রাজ্যে হোক আর কেন্দ্রেই হোক সব এক। 
শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বামীজীর চিন্তা নিয়ে বলছ, স্বামীজী সম্বন্ধে কে জানেন ? ভারতবর্ষে কজন জানেন স্বামীজী কি ছিলেন ? নেতা, মন্ত্রী, আমলা যারা দেশ চালান, তাদের ভিতর ক’জন জানেন স্বামজী সম্পর্কে ? তোমরা কিছু মনে করো না ভাই। কথা উঠলেই আজকাল শোনা যায় –  গান্ধীজী বলেছিলেন, স্বামীজীর লেখা পড়ে দেশের প্রতি তার ভালবাসা সহস্র গুণ বেড়ে যায়। ঐ টুকুই বলেছিলেন। বেলুড় মঠে একবার স্বামীজীর সাথে দেখা করতে এসেছিলেন। স্বামীজী সেদিন মঠে ছিলেন না। এখনকার মত তো আর মোবাইল বা ইমেল ছিল না, তাই আগে থেকে জানিয়ে আসতে পারেননি। ফিরে যাবার পথে ভিজিটরস বুকে কিছু লিখতে হয় তাই ঐ এক লাইন লিখেছিলেন। কিন্তু স্বামীজীর কোন ভাবটা তিনি ভারতবর্ষকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন
ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরুর নাম বলতে সবাই একেবারে…… ! তিনি নতুন করে ভারতবর্ষকে আবিস্কার করে ‘Discovery of India’ নামে একটি বই লিখলেন। দেশের তথাকথিত শিক্ষিত লোক তো পড়েছেই, বিদেশেও পড়া হয়েছে। কিন্তু নেহেরু ভারতবর্ষকে আবিস্কার করতে গিয়ে স্বামীজীকে দেখতেই পেলেন না। স্বামীজীর নামটাই ঐ বই এ ছিল না। তোমরা হাসছ তো, কিন্তু এটাই ঘটনা। তখনকার সময়ে রামকৃষ্ণ মিশনের প্রেসিডেন্ট মহারাজকে এক সন্ন্যাসী বইটি পড়তে দিয়ে কিছুদিন পর এসে জিজ্ঞাসা করলেনমহারাজ, বইটি পড়েছেন ? মহারাজ বললেন পড়েছি। সন্ন্যাসী  মহারাজের প্রতিক্রিয়া জানার জন্য আগ্রহভরে তাকিয়ে রইলেন। মহারাজের উত্তর ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত ‘‘Neheru is yet to discover India, ভারতবর্ষকে আবিস্কার করতে নেহেরুর এখনো সময় লাগবে।
এবং পরে রামকৃষ্ণ মিশনের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন স্বামী রঙ্গনাথানন্দ। অনেকেই হয়তো জান, স্বামী বিবেকানন্দের পরে সমগ্র জগতে Intellectual World কে নাড়া দিয়েছিলেন স্বামী রঙ্গনাথানন্দ। তিনি দিল্লিতে থাকা কালিন অনেকের মত জহরলাল নেহেরুও মহারাজের কাছে আসতেন। মহারাজ একদিন বললেন – Jawaharlal, in your book you are not included Swami Vivekananda’s name ?’তোমার বই এ স্বামীজীর নামটা পর্যন্ত রাখনি ? এই কথা শুনে নেহেরু বললেন–  ‘Sorry ! sorry ! It was a bad omission’ । ওহ ! আমি সত্যিই দুঃখিত, এটা মারাত্মক ভুল হয়ে গেছে। এই সব বলে পরের সংস্করণে স্বামীজী সম্পর্কে কিছু কথা, /৪ পাতা যোগ করলেন।
এই তো ভারতবর্ষের স্বামীজীকে চেনা। আমার বয়স হয়েছে ভাই। ব্রিটিশের রাজত্ব দেখেছি। ভারতবর্ষ স্বাধীন হতে দেখেছি। সেই দিনটি আজও স্পষ্ট মনে পড়ে। এখনো তোমাদের বলতেই চোখে জল আসছে। ১৪ই আগস্ট ১৯৪৭। গঙ্গার কাছেই আমাদের বাড়ি। পশ্চিম পাড়ে সূর্য অস্ত যাচ্ছে। মনে মনে বললাম– ‘পরাধীন ভারতবর্ষের শেষ সূর্য তুমি অস্ত যাচ্ছ। কাল যখন তুমি পূর্ব আকাশে উদিত হবে, তখন ভারতবর্ষ স্বাধীন’। সে যে কি আনন্দ, বুক ফাটা আনন্দ। আমি শুধু নয়, দেশশুদ্ধ লোক করেছিল। আলোয় আলোকময় রাস্তাঘাট, বাড়ি। সারারাত উৎসব চারিদিকে। তখন তো আর টেলিভিশন বের হয়নি, রাত ১২ টার সময় জহরলাল রেডিও তে চমৎকার এক ভাষণ দিয়ে বললেন, ভারত স্বাধীন হল।
কি স্বাধীনতা আজ আমরা ভোগ করছি ? সত্যিই কি আমরা যথার্থ স্বাধীনতা পেয়েছি ? এই স্বাধীন ভারতবর্ষে স্বামীজীর কোন ভাবটি নেওয়া হয়েছে। স্বামীজীর মুল্য তারা জানতেন না ভাই। কি বলতে কি পাগলের মত বলে ফেলছি জানি না ভাই।
স্বামীজী আমেরিকা থেকে ফিরে কলকাতায় রয়েছেন। কিছু তরুন রাজনৈতিক নেতা দেখা করে স্বামীজীকে বললেন, দেশের এত সমস্যা এর থেকে মুক্তির উপায় কি ? স্বামীজী বললেন– ‘দেশে মানুষ কই রে, আগে মানুষ তৈরি করো, তাহলেই সব সমস্যা চলে যাবে’। পরাধীনতাই কি আমাদের সবথেকে বড় সমস্যা নয় ? ‘দেশে যদি মানুষ না থাকে তাহলে স্বাধীনতা রক্ষা করবে কে’। আর এক জায়গায় বলেছিলেন–  ‘স্বাধীনতা ? ওরে আমি ৩ দিনে এনে দিতে পারি। মস্ত বড় এক ময়দানে সকলকে জড় কর। সেখানে ভারতের জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে ঘোষণা কর, আমরা আজ স্বাধীন হলাম। আর গোটাকতক বড় বড় দেশে বার্তা পাঠা যে, ভারতবর্ষ আজ থেকে স্বাধীন হল। এটা করলে কি হবে জানিস ? ইংরেজ গুলি চালাবে। তবে জানবি, বিবেকানন্দের রক্তটা মাটিতে প্রথম পড়বে’।
স্বামীজীকে কেউ বোঝেনি ভাই, আজও বোঝেনি। ভারতবর্ষের রাজনৈতিক নেতারা বোঝেনি কোন কালে। মুখে বলেন স্বামীজীর কথা। স্বামীজীকে নিয়ে রাজনীতি করেন, মঠে মিশনে যান। এদের চেনা আছে, বয়স হয়েছে, দেখেছি। অসহ্য লাগে। সেই যন্ত্রণা বুকে না থাকলে এই মহামণ্ডল হতো না। কিন্তু এখনো সবাই কি চুপ করে বসে থাকব ? যুবকরা কি বসে থাকবে ? আর কোনও রাস্তা নেই ভাই ! আর দ্বিতীয় কোনও মতবাদ, আর কোনও ইজমে কিছু হবে না। কোনও ইকনমিক পলিসিতে কিছু হবে না। কারণ সব কিছুর পিছনে আছে মানুষ। সেই মানুষ যদি মানুষ না হয়, কিছুতেই ভারতের উন্নতি সম্ভব নয়।
সেই কথা বুঝে নিয়ে, তেমন মানুষ হওয়ার জন্য আমাদের এই ক’দিনের এখানে আসা। ১৫০০ ভাই এক জায়গায় এসে, এত কষ্ট স্বীকার করা, অখাদ্য কিছু খাবার, প্রচণ্ড শীতে শোয়ার কষ্ট, একটানা বসে থাকা। এতো এমনি নয় ভাই। মস্ত বড় সাধনা, সকলের তপস্যার ক্ষেত্র। যে আগুন স্বামীজীর বুকে জ্বলছিল, সেই আগুন আমাদের ভিতরে জ্বালিয়ে নেব। আমরা আমাদের জীবনটা এমন করব যেন সেটা দেশের কাজে লাগে সমাজের কাজে লাগে। সবাইকে যেন ভালবাসতে পারি। যারা পিছিয়ে আছে, যারা নির্যাতিত, যারা নিপীড়িত, তাদের পাশে দাঁড়াবো। সমস্ত জীবন দিয়ে যদি এমন মানুষ হতে পারি, আর অন্তত একজন মানুষের ভিতরে সেই আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারি, জীবন সার্থক হয়ে যাবে। বুঝিয়ে দাও জগতকে। মানুষ সোজা জিনিস নয়, মানুষ ফেলনা নয়, মানুষ পশু নয়। জন্ম নিলাম, কিছু লেখাপড়া শিখলাম, রোজগার করলাম, বিয়ে করে সন্তান জন্ম দিয়ে একদিন চলে গেলাম। এটুকুর জন্য মানুষ হয়ে আসিনি। যাদের শুধু এটুকুতেই জীবন শেষ হয় তারা অভাগা, অত্যন্ত দুর্ভাগা।

শ্রী নবনীহরণ মুখোপাধ্যায়

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, অখিল ভারত বিবেকানন্দ যুব মহামণ্ডল।
৪০তম সর্বভারতীয় বার্ষিক যুব শিক্ষণ শিবিরে প্রশ্নোত্তরের কিছু অংশ (২০০৬)


स्वामी आत्मानंद के अनुज स्वामी निखिलात्मानंद का निधन

 स्वामी आत्मानंद के अनुज स्वामी निखिलात्मानंद का निधन

रामकृष्ण मिशन के वयोवृद्ध संन्यासी और सुप्रसिद्ध प्रवचनकार स्वामी निखिलात्मानंद जी का आज वाराणसी में निधन हो गया. वे पिछले कुछ दिनों से अस्वस्थ थे. वे स्वामी आत्मानंद जी के अनुज तथा प्रदेश कांग्रेस अध्यक्ष भूपेश बघेल के ससुर स्व. नरेंद्र देव वर्मा के बड़े भाई थे. वे विवेकानंद विद्यापीठ, रायपुर के सचिव ओमप्रकाश वर्मा के भी बड़े भाई थे.
 1936 में रायपुर ज़िले के अभनपुर में जन्मे स्वामी निखिलात्मानंद का संन्यास पूर्व का नाम देवेंद्र वर्मा था. उन्होंने सागर विश्वविद्यालय से एम.एससी. की परीक्षा प्रावीण्यता के साथ उत्तीर्ण की और लगभग दस वर्ष तक शासकीय विज्ञान महाविद्यालय में प्राध्यापक रहे. इसके बाद उन्होंने रामकृष्ण मिशन में शामिल होकर संन्यास ले लिया. वे देश भर में रामकृष्ण मिशन की अनेक शाखाओं में प्रमुख की तरह कार्यरत रहे, जिसमें बस्तर में रामकृष्ण मिशन के अबूझमाड़ वनवासी सेवा प्रकल्प का भी प्रभार रहा है.
 वे उम्र भर देश विदेश में भारतीय संस्कृति एवं धर्म दर्शन का घूम-घूमकर प्रचार करते रहे. रामचरित मानस और भगवत गीता पर उनके प्रवचन बहुत लोकप्रिय रहे.
 पिछले कुछ वर्षों से वे प्रबंधन के कार्यों से मुक्त होकर वाराणसी में रह रहे थे और अपना समय धर्म और दर्शन के प्रचार में व्यतीत कर रहे थे.

"পৃথিবী সুন্দর মানুষে পরিপূর্ণ….যদি এমন মানুষের খোঁজ না পান *….নিজে এমন মানুষ হন ."*

গরীব কে ?

একজন   সম্ভ্রান্ত   অর্থ সম্পন্ন   মহিলা   শাড়ির  দোকানে   যায়   এবং কাউন্টারের   ছেলেটিকে  বলে “ভাই, আমাকে  কিছু  সস্তা  দামের  শাড়ি  দেখাও. আমার  ছেলের বিয়ে,  তাই  বাড়ির  কাজের   মহিলাকে দিতে  হবে.”

কিছুক্ষণ পর,  বাড়ির  কাজের   মহিলাটি   শাড়ির  দোকানে এল এবং কাউন্টারের  ছেলেটিকে    বলল, “ভাই,  কিছু  দামি  শাড়ি  দেখাও   তো, আমি আমার  মালিকের   ছেলের   বিয়েতে  উপহার    দিতে   চাই.”

দারিদ্রতা  মানিব্যাগে  না মনের  মধ্যে  থাকে ?

ধনী কে ?

একদা,  একটি  মহিলা  তার   পরিবারের সাথে  বিশেষ প্রয়োজনে একটি  তিন  ★★★ তারা হোটেলে গিয়েছিলেন।মহিলাটির  সাথে  তার  ছয়   মাসের  একটি   শিশু  ছিল,
“আমি  কী  এক কাপ  দুধ  পেতে    পারি ?” মহিলাটি    তিনতারা ★★★  হোটেলের ম্যনেজারকে   জিজ্ঞাসা করল.
“হ্যাঁ, ম্যাডাম “, তিনি  উত্তর  করলেন,  “কিন্তু   এর   জন্য  আপনাকে  *দাম  দিতে হবে.” 
“ঠিক আছে “, মহিলাটি  বলল।

যখন তারা গাড়ি করে  হোটেল থেকে  ফিরছিলো, ছেলেটির পুনরায় ক্ষিদে পেল। তারা  রাস্তার  ধারে একটি চায়ের দোকানের সামনে গাড়িটা দাঁড় করাল এবং  চা  বিক্রেতার  কাছ থেকে দুধ  নিল…
“কত  দাম দেব ?” মহিলাটি   চা   বিক্রেতাকে  জিজ্ঞাসা  করল। 
তখন  চা বিক্রেতা  বললো, “মা,  আমরা  বাচ্চার জন্য  দুধের  দাম  নিই না.”,

বৃদ্ধ  চা বিক্রেতা  মৃদু হেসে বলল, “রাস্তায়  যদি  প্রয়োজন  হয়  আরো  এক  কাপ  দুধ  রেখে দিন “।
ভদ্র  মহিলা  আরো   এক কাপ  দুধ  নিয়ে  চলে গেলেন। তিনি   অবাক  হয়ে    ভাবলেন , “কে বেশী ধনী ?? 
হোটেল ম্যানেজার না  বৃদ্ধ চা বিক্রেতা ?”
মাঝে – মাঝে, অর্থ রোজগারের ইঁদুর  দৌড়ে আমরা ভুলে যাই যে আমরা

★ মানুষ.★

আসুন  কোনকিছু ফেরত পাবার আশা না রেখে আমরা অন্যের প্রয়োজনে হাত   বাড়িয়ে দিই।
 
এটা   আমাদের মনে যে সন্তোষ প্রদান করবে, অনেক  অর্থও সে সন্তোষ দিতে পারবে  না।

দুধ :ও: চিনির  সাথে পরিচয় না হলে কফি জানতেই পারত না তার স্বাদ এত  সুন্দর ও সুস্বাদু  হতে পারে।

আমরা ব্যক্তি হিসাবে নিঃসন্দেহে ভাল  কিন্তুু, আরো ভাল হতে পারি যদি আমরা উপযুক্ত লোকের সংস্পর্শে আসতে পারি এবং, এমন লোকের সাথে মিলেমিশে কাজ করতে  পারি….
সর্বদা সঠিক লোকের সংস্পর্শে থাকুন।

“পৃথিবী   সুন্দর মানুষে পরিপূর্ণ….যদি এমন মানুষের খোঁজ না পান *….নিজে   এমন মানুষ  হন .”*

এখানে ঠাকুরের কতকগুলি অমূল্য উপদেশ শ্রীমর সংগৃহীত কথামৃত থেকে উদ্ধৃত হলঃ ২৫ নং

কথামৃতের ইতিবৃত্ত

শ্রীম জোর দিয়ে বলতেনঃ ঠাকুরের প্রতিটি কথাই মন্ত্র।
এর দ্বারা তিনি বোঝাতে চেয়েছেন ঠাকুরের কথা চিন্তা করে মানুষ ভগবানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
এখানে ঠাকুরের কতকগুলি অমূল্য উপদেশ শ্রীমর সংগৃহীত কথামৃত থেকে উদ্ধৃত হলঃ

  *১। মানবজীবনের উদ্দেশ্য ঈশ্বরললাভ।
  *২। কামিনীকাঞ্চনই মায়া।
  *৩। সত্যকথা কলির তপস্যা।
  *৪। ভাগবত,ভক্ত,ভগবান– তিনে এক।
  *৫। আমি মলে ঘুচিবে জঞ্জাল।
  *৬। আমি যন্ত্র তুমি যন্ত্রী।
  *৭। নাহং নাহং তুঁহু।
  *৮। যত মত তত পথ।
  *৯। অদ্বৈত জ্ঞান আঁচলে বেঁধে যা ইচ্ছা তাই করো।
*১০। ভক্ত হবি তো বোকা হবি কেন?
*১১। ঈশ্বর কল্পতরু।
*১২। ব্রহ্ম আর শক্তি অভেদ।
*১৩। বেদান্তের সার– ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা।
*১৪। গীতার সার — ত্যাগী ত্যাগী।
*১৫। বিষয়ে আসক্ত মন ভিজে দেশলাই।
*১৬। নিরাকারও সত্য আবার সাকারও সত্য।
*১৭। যেমন ভাব তেমনি লাভ।
*১৮। ধ্যান করবে মনে, বনে ও কোণে।
*১৯। ডুব দাও।
*২০। সচ্চিদানন্দই গুরু।
*২১। ঈশ্বর কে তুষ্ট করো, সকলেই তুষ্ট হবে।
*২২। তিনিই সব হয়েছেন, তবে মানুষেই বেশি প্রকাশ।
*২৩। ইশ্বরের ইতি করাটাই হীন বুদ্ধি।
*২৪। মন মুখ এক করাই ধর্ম।
*২৫। ভাবের ঘরে চুরি করো না।
জয় ঠাকুর । জয় মা ।
Design a site like this with WordPress.com
Get started