যেই ছেলেটা লুকোচুরি খেলার সময় চোর হয়ে আমার পিছনে টানা ৫ মিনিট ছুটেছিল, সে আমার বন্ধু হয়ে গিয়েছিল …
ছোট্ট চুলের ঐ মেয়েটা একটা চুইংগাম দিয়েছিল ক্লাস টু তে, সেদিনই আমার বন্ধু হয়ে গেছিল…
পাশের বেঞ্চের ছেলেটা চুপচাপ বসে থাকতো সারাদিন, কারণ ছাড়াই সেও আমার বন্ধু হয়ে গেলো
আর মারামারি করা সেই গুন্ডা ছেলেটাও অদ্ভুত ভাবে পরের দিনেই বন্ধু
এই হুট করে হওয়া বন্ধুত্বটা হুট করেই ভেঙ্গে যেতো না … ৫ টাকা দিয়ে অনেকগুলা Sticker কিনে বন্ধুদের খাতায় লাগিয়ে দেওয়া … বাবল গাম খেয়ে Tattoo পেলে ছেলেটার হাতে বসিয়ে দেওয়া কিংবা Trump Card কার্ডগুলা নিয়ে একসাথে বসে যেতাম……..
কি সহজ, কি সুন্দর ছিল সেসব বন্ধুত্ব !!
সেই বন্ধুত্বে আড়ি ছিলো … রাগ ছিলো … মজা ছিল Jealousy ছিলো … খেলার মাঠে ল্যাং মেরে ফেলে দেয়া ছিল এক সাথে কান ধরে দাড়ান ছিল… চুইং গাম চিবিয়ে বেঞ্চে আটকে দেওয়া ছিল…..Tiffin নিয়ে মারামারি ছিল … সব ছিলো !!
এখনকার বন্ধুত্বেও সবই আছে … শুধু “সহজ” – নামক জিনিসটা নেই !!
এখন আর বন্ধুরা “আড়ি” করে না, কিন্তু বাইরে থেকে “ব্যস্ততা” নামক একটা অজুহাত দিয়ে ভুলে যেতেও সময় নেয়না
এখনো বন্ধুরা “রাগ” করে… কিন্তু “রাগ” দেখিয়ে দুটো কথা বলে না … “Ignore” করে … যেটা সব থেকে খারাপ লাগে
এখনো বন্ধুদের মাঝে “Jealousy” থাকে … কিন্তু আগের মত সামনে থেকে ল্যাং মেরে ফেলে দেওয়া হয় না … এখনের “jealously” মানে পেছন থেকে ছুরি মারা নীরবে নিঃশব্দে !!
এখন বন্ধুরা বন্ধুকে ভুলে যায় … “Girlfriend” বা “Boyfriend” নিয়ে জগত সাজিয়ে নীরবে জানিয়ে দেয় “এখন আর তোদের দরকার নেই “
এখনো “ঝগড়া” হয় … তবে নীরব ঝগড়া …যাকে ইংরেজিতে বলে “COLD WAR” … … এই ঝগড়ায় কোন কথা কাটাকাটি নেই … না আছে রাগের প্রকাশ, নীরবতার ছুরি দিয়ে একজন আরেকজনের ভেতরটাকে সহজেই কাটাকাটি করে ফেলে !!
কেউ এখন আর সরাসরি কিছু বলে না আগের মত … কপাল কুচকে বলে না….
“তুই আমার Sticker কেন নিলি ?”
“তুই আমার Tiffin টা কেন খেলি?”
“তুই আমার Tiffin টা কেন খেলি?”
সবাই বড্ড Mature … সবার বড্ড বেশিই Ego… সবাই সবাইকে “বুঝে নেয়” … বুঝে নিতে গিয়েই ভুল হয়ে যায় … ইংরেজিতে যাকে বলে “MISUNDERSTANDING”
সবকিছু বড্ড বেশিই জটিল হয়ে গেছে … চিন্তা, ভাবনা, কথা, কাজ … সব … আমরা কেউ কাউকে সরাসরি জিজ্ঞেস করি না “কেন এটা করলি ??”
আমরা মনে মনে ভেবে নিই –
“সে কেন এটা করলো ?? নিশ্চয়ই……”
আঙ্গুলের সাথে আঙ্গুল মিলিয়ে চোখের দিকে তাকিয়ে “আড়ি” নেয়ার দিনগুলোই বোধ হয় ভালো ছিল … At Least কারণটা তো জানতাম !!
ছোট্ট বেলাটার ছোট্ট জামাটাই বেশ ছিল গাল টিপে আদর খাওয়া টাই বেশ ছিল,
এখন হুট করে চোখের সামনে “ADD FRIEND” অথবা “UNFRIEND” বাটনটা যখন সামনে চলে আসে , কারণ খুঁজতে খুঁজতে মনে পড়ে যায়
ভুল করেই মনে হয় বড় হয়ে গেছি….
