অসুস্থতার সময় *শ্রী শ্রী রাজা মহারাজের* শরীরের অবস্থা খারাপ হয়ে চলল কিন্তু মন ছিল অত্যন্ত সবল। সব সময় মহারাজ ভাবস্থ হয়ে থাকতেন, আর মাঝে মাঝে উচ্চারণ করতেন – *”কমলে কৃষ্ণ, কমলে কৃষ্ণ!* এই কথাগুলোর পেছনে একটা ইতিহাস আছেঃ স্বামী সারদানন্দ একবার শ্রীরামকৃষ্ণকে বলতে শুনেছিলেন যে *রাখাল কৃষ্ণসখা।* পরে তাঁর বই ‘শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণলীলাপ্রসঙ্গ’তে মহারাজের সম্বন্ধে লিখতে গিয়ে তিনি এর উল্লেখ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্বামী প্রেমানন্দ তাঁকে বললেনঃ *”ঠাকুর যদিও বলেছেন মহারাজ ‘কৃষ্ণসখা’, তবুও তোমার এটা উল্লেখ করা উচিত নয়। মহারাজ এটা পড়লে তাঁর শরীর ছেড়ে দিতে পারেন।”* এই শুনে স্বামী সারদানন্দ তাঁর বইতে এটা আর ছাপালেন না। যোগীন-মা শরৎ মহারাজকে বলেছিলেনঃ “মহারাজ যদি একবার নিজের স্বরূপ চিনতে পারেন, তোমরা তাঁকে আর রাখতে পারবে না।” এই কারণে মহারাজ কখনও গয়া যাননি। শ্রীরামকৃষ্ণ কখনও গয়া বা পুরী যাননি। যদি তাঁরা সেখানে যেতেন তবে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে তাঁদের পুরনো পরিচয়ের স্মৃতি মনে পড়ে যেত এবং তাঁরা তাঁদের স্থূল শরীর ছেড়ে দিতেন। আমাদের কল্যাণের জন্যই তো তাঁদের শরীর ধারণ! – স্বামী অশেষানন্দ
