সঙ্ঘজননী ও মা
————_————
সন্ন্যাসীরা অনাবশ্যক কঠোরতা করবেন ,মা তা চাইতেন না l কোয়ালপাড়া আশ্রমে খাওয়া-দাওয়ার অসুবিধে ছিল l ত্যাগী-সন্তানদের স্বাস্থ্যের কথা কথা মনে রেখে মা সেখানে মাছ খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন l স্বামী বিশুদ্ধানন্দ ,স্বামী শান্তানন্দ এবং স্বামী গিরিজানন্দের
বাসনা ছিল শ্রীমার কাছ থেকে সন্ন্যাস নিয়ে অবশিষ্ট জীবন পরিব্রাজক সন্ন্যাসী রূপে কাটিয়ে দেবেন l মা তাদের সন্ন্যাস দিলেন ,তবে পরিব্রাজক-জীবনের কঠোরতায় মায়ের মন সায় দিল না l তাঁদের সংকল্পের মর্যাদা রক্ষা করে মা তাঁদের কাশী পর্যন্ত পদব্রজে যাওয়ার অনুমতি দিলেন l
————_————
সন্ন্যাসীরা অনাবশ্যক কঠোরতা করবেন ,মা তা চাইতেন না l কোয়ালপাড়া আশ্রমে খাওয়া-দাওয়ার অসুবিধে ছিল l ত্যাগী-সন্তানদের স্বাস্থ্যের কথা কথা মনে রেখে মা সেখানে মাছ খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন l স্বামী বিশুদ্ধানন্দ ,স্বামী শান্তানন্দ এবং স্বামী গিরিজানন্দের
বাসনা ছিল শ্রীমার কাছ থেকে সন্ন্যাস নিয়ে অবশিষ্ট জীবন পরিব্রাজক সন্ন্যাসী রূপে কাটিয়ে দেবেন l মা তাদের সন্ন্যাস দিলেন ,তবে পরিব্রাজক-জীবনের কঠোরতায় মায়ের মন সায় দিল না l তাঁদের সংকল্পের মর্যাদা রক্ষা করে মা তাঁদের কাশী পর্যন্ত পদব্রজে যাওয়ার অনুমতি দিলেন l
স্বামী ব্রজেশ্বরানন্দ কাশী গিয়ে তপস্যা করার জন্য মার কাছে অনুমতি চাইলে মা বলেন –“কার্তিক মাস ,লোকে বলে যমের চার দোর খোলা l আমি মা ; আমি কি করে বলি ,বাবা ,তুমি যাও ?আবার বলছ , হাতে পয়সা নেই ,খিদে পেলে কে খেতে দেবে , বাবা ?”স্বামী ব্রজেশ্বরানন্দর আর যাওয়া হল না l
ত্যাগী-সন্তানদের কারও স্বাস্থ্যহানি হলে মা যেমন চিন্তিতা হতেন ,ততোধিক চিন্তিতা হতেন যদি কারও আচরণে ত্রুটি দেখতেন l
সাধুর কারও প্রতি শ্রদ্বা-ভক্তি থাকতে পারে l কিন্তু সেই শ্রদ্বা-ভক্তি হবে আদর্শ ভিত্তিক l মা তাই বলতেন —
“সাধু সব মায়া কাটাবে l সোনার শিকলও বন্ধন আবার লোহার শিকলও বন্ধন l সাধুর মায়ায় জড়াতে নেই l “
“সাধু সব মায়া কাটাবে l সোনার শিকলও বন্ধন আবার লোহার শিকলও বন্ধন l সাধুর মায়ায় জড়াতে নেই l “
আগ্রহী সন্তানদের গৈরিক দিয়ে মা যেমন আনন্দ পেতেন ,তেমনি যাতে সেই সন্তান গৈরিকের মর্যাদা রক্ষা করতে পারে ,সেইজন্য যথাযথ উপদেশও দিতেন l একবার ঠাকুরের সময়ের কোন গৃহী ভক্তের সাথে স্বামী শান্তানন্দর কাশী যাওয়ার কথা হয় l মা সব শুনে বললেন :-“তুমি সাধু ,তোমার কি আর যাওয়ার ভাড়া জুটবে না ?ওরা গৃহস্থ ,ওদের সাথে কেন যাবে ? এক গাড়িতে যাবে ,হয়তো বললে ,এটা কর ,ওটা কর l তুমি সন্ন্যাসী ,তুমি কেন সেসব করতে যাবে ?”
পক্ষী-জননী যেমন নিজের পক্ষপুট দিয়ে শাবককে রক্ষা করে ,মা তেমনি ভাবে তাঁর সব সন্তানদের নিজের স্নেহের আঁচল তলে ঢেকে রাখতেন lস্বামী বিরজানন্দ খুবই অসুস্থ অবস্থায় মাকে জয়রামবাটিতে দর্শন করতে গেলে পর মা জিজ্ঞাসা করলেন : “ধ্যান কোথায় কর ? হৃদয়ে না সহস্রারে ?”স্বামী বিরজানন্দ উত্তর দিলেন :–
“সহস্রারে” l শুনে মা বললেন –“বাবা করেছ কি? ও যে শেষ অবস্থার কথা —পরমহংস অবস্থার কথা l একেবারেই কি অত উঁচুতে মনকে রাখতে পারা যায় ? প্রথমে একবার মনকে মস্তকে নিয়ে গিয়ে পরে হৃদয়ে নামিয়ে এনে সেখানে ইষ্টর ধ্যান করতে হয় l ” আসলে মা তাঁর আদরের সন্তানকে দেখেই বুঝতে পেরেছিলেন যে এই রোগ শরীরের নয় ,তাই সমস্ত চিকিৎসা ,নিয়ম-পালন , পথ্যাদি যা করতে পারেনি মায়ের সামান্য বিধানে তা সম্ভব হল l
“সহস্রারে” l শুনে মা বললেন –“বাবা করেছ কি? ও যে শেষ অবস্থার কথা —পরমহংস অবস্থার কথা l একেবারেই কি অত উঁচুতে মনকে রাখতে পারা যায় ? প্রথমে একবার মনকে মস্তকে নিয়ে গিয়ে পরে হৃদয়ে নামিয়ে এনে সেখানে ইষ্টর ধ্যান করতে হয় l ” আসলে মা তাঁর আদরের সন্তানকে দেখেই বুঝতে পেরেছিলেন যে এই রোগ শরীরের নয় ,তাই সমস্ত চিকিৎসা ,নিয়ম-পালন , পথ্যাদি যা করতে পারেনি মায়ের সামান্য বিধানে তা সম্ভব হল l
যে ভুল করেছে ,মাতৃসুলভ স্নেহ দিয়ে তার ভুল দেখিয়ে দিয়েছেন ,ভুল সংশোধন করে নিতে উৎসাহ দিয়েছেন কিন্তু স্নেহান্ধ হয়ে দুর্বলতাকে প্রশ্রয় দেননি l একবার তাঁর এক ত্যাগী সন্তান সন্ন্যাসের পবিত্র ব্রত ভঙ্গ করে অনুতপ্ত হলে মা তাঁকে বলেছিলেন –“তোমার সব অপরাধ আমি ক্ষমা করছি ,তুমি আমার সন্তানই থাকবে ,কিন্তু ব্রত ভঙ্গকারীর কোন প্রায়শ্চিত্তেই সন্ন্যাসীসঙ্ঘে স্থান হতে পারে না l ” মাতৃহৃদয় ও ক্ষেত্রবিশেষে কত কঠিন হতে পারে ,এ ঘটনা তার উজ্বল দৃষ্টান্ত l
নিবেদিতা লিখেছেন —“যখন কঠোরতার প্রয়োজন হত তখন মা কোনরকম যুক্তিহীন ভাবালুতায় বিভ্রান্ত হতেন না l “শ্রীশ্রীমা বিশেষভাবে বিচলিত হতেন যখন দেখতেন তাঁর কোন সাধু সন্তান ভিক্ষা করে খেয়ে ইতস্তত ঘুরে বেড়াছে l তিনি চাইতেন সাধুরা সব একসাথে থাকুন ,আর সাধনভজন ও আর্ত-নারায়ণের সেবা করে জীবন কাটান l
নিবেদিতা লিখেছেন —“যখন কঠোরতার প্রয়োজন হত তখন মা কোনরকম যুক্তিহীন ভাবালুতায় বিভ্রান্ত হতেন না l “শ্রীশ্রীমা বিশেষভাবে বিচলিত হতেন যখন দেখতেন তাঁর কোন সাধু সন্তান ভিক্ষা করে খেয়ে ইতস্তত ঘুরে বেড়াছে l তিনি চাইতেন সাধুরা সব একসাথে থাকুন ,আর সাধনভজন ও আর্ত-নারায়ণের সেবা করে জীবন কাটান l জয় ঠাকুর-জয় মা-জয় স্বামীজী মহারাজ l Radhe Radhe








